মাদারীপুরে ভ্যান চালক হত্যায় মামলায় অটো ভ্যানসহ দুই আসামি গ্রেফতার

  মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১৮:১৭ |  আপডেট  : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৮

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈর গ্রামের অটো ভ্যান চালক আকাশ আকন (১৮) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো রাজৈর উপজেলার সুন্ধিকুড়ি গ্রামের কামরুল কাজীর ছেলে আবু বক্কর কাজী (২৮), নয়াকান্দি গ্রামের মৃত বারেক শেখের ছেলে মো. হায়দার শেখ (৪০)। এ সময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও ব্যাটারী চালিত অটো ভ্যান উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপ:) জাহাঙ্গীর আলম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, প্রতিদিনের মতো ২৯ জুলাই ভ্যানগাড়ি নিয়ে কাজের সন্ধানে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি ভ্যান চালক আকাশ। পরের দিন ৩০ জুলাই রাজৈর থানাধীন নয়ানগর মাঝকান্দি গ্রামের মোতালেব মোল্লার বসত ঘরের পূর্বপাশে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃতদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। এ হত্যাকান্ডের পর থেকে মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাসান স্যারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপঃ) জাহাঙ্গীর আলম এর সার্বিক নেতৃত্বে রাজৈর থানা এবং ডিবির একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে রাজৈর থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মামলার ঘটনায় জড়িত আসামী হায়দার শেখকে তাহার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার হেফাজত থাকা মৃত আকাশের ব্যবহৃত সিমফোনি মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী হায়দার শেখের দেয়া তথ্য মতে ঘটনার সহিত জড়িত আসামী মোঃ আবু বক্করকে তাহার নিজ বাড়ি হইতে গ্রেফতার করা হয়। আবু বক্করকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং তার প্রদত্ত তথ্য মতে রাজৈর থানাধীন হৃদয়নন্দি সাকিনস্থ জনৈক এমদাদুল ফকির এর গ্যারেজ হইতে মৃত আকাশ আকনের ব্যাটারী চালিত অটো ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আসামীরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। আসামীরা রাতের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় সংঘবদ্ধভাবে থাকিয়া সুযোগ বুঝে ইজি বাইক, অটো ভ্যান চালকদের হাত পাঁ বাধিয়া এবং ক্ষেত্র বিশেষে চালককে হত্যা করিয়া ইজি বাইক, অটো ভ্যান ছিনতাই করে নিয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। মূলত নেশার টাকা সংগ্রহ করার জন্যই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সহজ টার্গেট মনে করে অটোরিকশা চালকদের তাদের শিকারে পরিনত করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত