মাদারীপুরে দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ২০ বাড়িঘর ভাঙচুর

  এসআর শফিক স্বপন মাদারীপুর

প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ |  আপডেট  : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮

মাদারীপুর সদর উপজেলায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) সকালের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা দ্রুতই সহিংস আকার ধারণ করে। এ সময় দু'গ্রুপের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার শামসু সরদার (ওরফে কোপা শামসু) ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই বিরোধ আরও তীব্র হয়। শুক্রবার সকালে বিরোধের জেরে শামসু সরদার গ্রুপের লোকজন প্রথমে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মোবাইলের দোকান, একটি হোটেল এবং একটি মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা হাবিব হাওলাদার গ্রুপের সমর্থক ঢালী বংশের কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাট করা হয়।

এ হামলার পরপরই হাবিব হাওলাদার গ্রুপের লোকজনও সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা জানান, ককটেল বিস্ফোরণ এবং হামলার কারণে বহু পরিবার আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত