পাপুলের এমপি পদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ জুন ২০২১ |  আপডেট  : ২৩ জুন ২০২১

অর্থ ও মানবপাচারের দায়ে কুয়েতের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের এমপি পদ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা রিট খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

পাপুলের পক্ষে তার বোন নুরুন্নাহার বেগম গত মার্চে এই রিট করেন। রিটে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হয়। সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও মানবপাচারের দায়ে কুয়েতের আদালতের রায়ে দণ্ডিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্য পদ বাতিল করা হয়। সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এদিকে লক্ষ্মীপুর-২ আসন শূন্য ঘোষণা করে আগামী ২১ জুন ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

গত ২৮ জানুয়ারি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংসদ সদস্যের বিদেশে গ্রেফতার ও ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর পদ হারানোর ঘটনা এটাই প্রথম।

২০২০ সালের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সাড়ে সাত মাস আর বিচার প্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।

এর আগে কুয়েতের আদালতে শাস্তির রায় ঘোষণার পর গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলের সংসদীয় পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে সংসদ সচিবালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম কুয়েতের ফৌজদারি আদলতে গত ২৮ জানুয়ারি তারিখে ৪ চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন। সে কারণে সংবিধানের ৭(১) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায় ঘোষণার তারিখ থেকে তার আসন (২৫ লক্ষ্মীপুর-২) শূন্য হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৮(৪) বিধি অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের আসন শূন্য সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।

পরে এই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের বোন নুরুন্নাহার বেগম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত