ক্ষতিকারক পোকা দমনে

কাউনিয়ায় পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

  সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৫ |  আপডেট  : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪১

উত্তরের জেলা রংপুরের কাউনিয়ায় উপজেলায় ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লাইফ ও ডেড পার্চিং পদ্ধতি। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে কৃষক ধানের জমিতে ধই, গাছের ডাল, খুঁটি, বাঁশের কি  পুতে এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন করছে। সেগুলোর উপর ফিঙ্গে পাখিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বসে ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। এই পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য অত্যন্ত কম ব্যয় এবং পরিবেশবান্ধব। এই পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন খরচ ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে পাওয়ায় এটি এখন কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হে ছে। অনেক কৃষক আমন ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। 

কাউনিয়া উপজেলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর কাউনিয়া উপজেলায় ১১৩৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অর্জন হয়েছে ১১৪৬০ হেক্টর। মহামারী করোনার মধ্যেও উপজেলার কৃষকরা অনেক স্বপ্ন বুকে নিয়ে তাদের জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। বর্তমানে তাদের রোপণকৃত ধানগাছে শিষ বেরহতে শুরু করেছে। এলাকায় দিগন্ত মাঠ জুরে এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসলের মাঠ দেখে কৃষকদের মনে এনে দিয়েছে প্রশান্তি। পার্চিং সাধারণত ২ প্রকারের হয়ে থাকে। ডেড পার্চিং ও লাইভ পার্চিং। মরা ডালপালা পুঁতে দিলে তা হবে ডেড পার্চিং আর জীবন্ত ধই র ডাল জমিতে গেরে দিলে তা হবে লাইভ পার্চিং। কৃষকরা তাদের আমন ফসলের ক্ষেতকে ক্ষতিকারক পোকা থেকে রক্ষার জন্য বাঁশের আগা, বাঁশের কি , গাছের ডাল এবং জীবন্ত ধই র গাছ লাগিয়ে বিভিন্ন পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষা করেছেন। এসব ব্যবহারে শালিক, বুলবুলি, ফিঙ্গেসহ বিভিন্ন ধরনের পোকাখাদক পাখি ক্ষেতের পার্চিংয়ের উপরে বসে। সেখান থেকে উড়ে উড়ে গিয়ে ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। এর ফলে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধান ক্ষেত র¶া পাচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ধান উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। কাউনিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে অধিকাংশ কৃষক চলতি মৌসুমে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। 

গদাই গ্রামের ধানচাষি শাহজাহান জানান, এবার তাদের জমিতে ধান এখন সবুজ ও সতেজ হয়ে উঠেছে। তারা সম্পর্ণ ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি করেছেন। আর কিছু দিনের মধ্যেই তাদের স্বপ্ন সোনালী ফসল তাদের গোলায় তুলবে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন জানান, এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সহ নানা ভাবে পাচিং পদ্ধতির উপকারীতা সম্পর্কে জানান হচ্ছে,ফলে তারা এবার বেশীভাগ জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছ।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত