কাউনিয়ায় ঋতুরাজ বসন্তের প্রতীক শিমুল গাছ হারিয়ে যাচ্ছে

  সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৩ |  আপডেট  : ১ মার্চ ২০২৬, ০০:৩১

গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা আর মুকুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আবার এসেছে ফাগুন, ফিরেছে বসন্ত। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলেছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুলের মেলা। কিন্তু কালের বিবর্তনে আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ রংপুরের কাউনিয়ায় বিলুপ্ত প্রায়।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে বয়স্ক মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে কিছু দিন আগেওে গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে, রেল ও সরকারী রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে ফোটা শিমুল ফুলই মনে করিয়ে দিত বসন্তের আগমনী বার্তা। কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ফুলের দেখা মিললেও চোখে পড়েনা সেই চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙ্গের শিমুল ফুল। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ায় পরিবেশে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বসন্তের বার্তবাহক গাছ বিলুপ্তির জন্য কৃষি বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ী করছেন অনেকে। গদাই গ্রামের শাজাহান জানান, শিমুল গাছে বসন্তের শুরুতেই ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। প্রাকৃতিকভাবেই শিমুল গাছ বেড়ে উঠে। তিস্তা রেল সেতুর কাছে শিুুল গাছগুলো এখনও প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে টানে। নিজপাড়া গ্রামের নাছির উদ্দিন জানান, শিমুল গাছ কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত তুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। অপরদিকে শিমুল তুলা বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারতো কৃষক। ছোটবেলায় দেখেছি বাড়ির লেপ তোষক বালিশ তৈরী করা হতো শিমুল তুলা দিয়ে। প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ। এ গাছে বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করতো। গাছ উজাড় হওয়ায় পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে এবং ধিরে ধিরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করলে একটি বড় ধরনের শিমুল গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। শিমুল ঔষধি গাছ হিসাবে সুপরিচিত। উপকারী গাছটি বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছের চারা রোপণে কৃষকের উদাসীনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকাকে বিলুপ্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারী খাস জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বড়বড় রাস্তার ধারে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ শিমুল গাছ রোপনের কর্মসূচি গ্রহনের দাবী এলাকাবাসীর। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত