এক হারেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঝলমলে পৃথিবী হঠাৎ বিবর্ণ

  ক্রীড়া ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৫ |  আপডেট  : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৯

অক্ষর প্যাটেলের জায়গায় ওয়াশিংটন সুন্দরকে কেন নেওয়া হলো? অভিষেক শর্মাকে আর কত সুযোগ দেওয়া হবে? এমন আরও অনেক প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সাবেকরা। তবে সব ছাপিয়ে বড় প্রশ্ন, ভারত কি পারবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে?

এক হারেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ঝলমলে পৃথিবী হঠাৎ বিবর্ণ হয়ে গেছে। প্রশংসার ফুলগুলো ঝরে গেছে। সমালোচনার সমুদ্রে সূর্যরা। রোববার আহমেদাবাদে সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় হারে অনিশ্চিত ভারতের সেমিফাইনাল। সমীকরণ এমনই জটিল যে, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে ভারতের!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড টানা ১২ ম্যাচ জিতে অপ্রতিরোধ্য ভারত নিজেদের মাঠে ৯১ হাজার দর্শকের সামনে ব্যাটে-বলে যেভাবে পর্যুদস্ত হয়েছে প্রোটিয়াদের কাছে, তাতে হতবাক ক্রিকেটবিশ্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রানের জবাবে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় বারোটা বেজেছে ভারতের রানরেটেরও।

এক নম্বর গ্রুপ থেকে সেমিতে উঠতে ভারতের প্রথম করণীয় বাকি দুই ম্যাচ জেতা। তাতেও সেমিফাইনালে নিশ্চয়তা নেই। কারণ গ্রুপের তিনটি দল সমান চার পয়েন্ট করে নিয়ে সুপার এইট শেষ করতে পারে। আবার এক দলের ছয় ও দুই দলের পয়েন্ট হতে পারে চার করে। সেক্ষেত্রে নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকলে বিদায় নেবে ভারত।

নেট রানরেটের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাই জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিততে হবে স্বাগতিকদের। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরের দুই ম্যাচ জিতলে কিছুটা সুবিধা হবে ভারতের।

সেক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট কম থাকবে। তখন নিজেদের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলে শেষ চারে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী হবে ভারত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের কেউ যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।

এক হারে সেমির পথ এমন কঠিন হয়ে গেলেও নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেছেন, ‘আমরা ভুল থেকে শিখব। শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব। চেষ্টা করব সব কিছু সাধারণ রাখতে। যে ব্র্যান্ডের ক্রিকেট আমরা খেলে আসছি, সেটাই ধরে রাখতে চাইব। এক হারে সব বদলে যায়নি। আমার বিশ্বাস, আমরা শক্তভাবে ফিরে আসব।’

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সূর্যদের অসহায় আত্মসমর্পণের কারণ বিশ্লেষণ করে ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, ‘উইকেটের আচরণ কিংবা ম্যাচের পরিস্থিতি কোনো কিছুর সঙ্গেই ভারতের কারও মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা আমার চোখে পড়েনি। দক্ষিণ আফ্রিকা এই মাঠে তিন ম্যাচ খেলেছে। তাই তারা জানে উইকেট কেমন আচরণ করবে। প্রথম পাঁচ ওভারে ভুগলেও পরে তারা মানিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মিলার ও ব্রেভিসের ব্যাটিং ও জুটি গড়া দেখেও শিখতে পারেনি ভারত।’

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত