শেষ মুহুর্তেও আশানুরুপ ক্রেতা নেই ঈদ বাজারে, হতাশায় ব্যবসায়ীরা
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২, ২০:২৩ | আপডেট : ৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৫
ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই নতুন পোশাকের সাথে বাড়তি বাড়তি খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে টানা দুই বছর নানা বিধি নিষেধের মধ্যে এক ধরণের নিরস ঈদ উদযাপন করতে হয়েছে দেশবাসীকে। যার ফলে আশানুরুপ ব্যবসা করতে পারেননি তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীরা। দুই বছর পরে এবারের বিধি নিষেধ না থাকায় করোনাকালীন ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়ার আশা করছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ঈদের আগ মুহুর্তেও আশানুরুপ বিক্রি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, তৈরি পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের তেমন ভীড় নেই। সব মিলিয়ে বিক্রি অনেক কম। সাধারণ সময়ের থেকে বিক্রি কম এমন দাবি করেছেন দুই একজন ব্যবসায়ী। তবে বাগেরহাটে এবার ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের পোশাক কিছুটা বেশি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য মেয়েদের পোশাকে চমকপ্রদ নানা নাম দেওয়া হয়েছে । এর মধ্যে পুষ্পা ও কাঁচাবাদাম নামের নতুন দুটি থ্রি পিসের প্রতি আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। দুই হাজার থেকে পাচ হাজারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে এসব ড্রেস। এছাড়া বারবি বিক্রি হচ্ছে, তিন হাজার থেকে চার হাজার, শারারা আড়াই হাজার থেকে চার হাজার, গাউন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার, লেহেঙ্গা সাড়ে তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়।
এছাড়া সাধারণ থ্রি-পিস চারশ থেকে ১২শ টাকা, ওড়না দুইশ থেকে আটশত ও হিজাব দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে।
অন্যদিকে বাচ্চাদের পাঞ্জাবি ৫০০- ১৫০০ টাকা, শার্ট ৫০০-১০০০ টাকা, প্যান্ট ৪০০-১২০০ টাকা, গেঞ্জি ২০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়দের পাঞ্জাবি ৬০০-৫০০০ টাকা, শার্ট ৭০০-১২৫০ টাকা ও প্যান্ট ১০০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের কোর্ট মসজিদ গলির ব্যবসায়ী ফেসবুক ফ্যাশানের স্বত্তাধিকারী শেখ মাসুদ বলেন, প্রতি ঈদেই আমার দোকানে ১০ জন লোক নিতে হয়। সবাই পূর্ব নির্ধারিত হওয়ায় মানবিক কারনে করোনার দুই বছরে বেচা বিক্রি না থাকলেও তারা কাজ করেছে। এবারও তারা আছে দোকানে, কিন্তু গেল দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবো না। তিন বছর আগেও এই সময়ে অন্তত দুই থেকে তিন লাখ টাকা বেশি আয় হত। কিন্তু এবছর কি হবে আল্লাহ ই ভাল জানেন, এখনও কোন আশার আলো দেখছি না।
শহরের রুপালী গার্মেন্টস এর বিক্রয় কর্মকর্তা শাহাদাত ফকীর বলেন, গত বছর করোনা থাকলেও এই বছরের চেয়ে আমাদের বেচা-কেনা ভালো হয়েছিল। কিন্তু এবার করোনার প্রকোপ নেই, মার্কেটে মানুষজনও আসতেছে মোটামুটি। কিন্তু কেউ কিনতেছে না তেমন। রেগুলার কাস্টমার যারা বেশি বেশি পোষাক কিনত, তারাও এবার কিনছেন না তেমন।
শুকসারী গার্মেন্টসের বিক্রয়কর্মী আনিসুর রহমান বলেন, বাড়তি আয়ের আশায় রমজানের এক মাস কাপড়ের দোকানে থাকি। দুই বছর পরিবারের জন্য কিছু কিনতে পারিনি। ভেবেছিলাম এবার বেচা-কেনা ভালো হবে। বোনাসও ভালো পাবো। কিন্তু শেষ মূহুর্তে এসেও বেচা-কেনার যে অবস্থা তাতে হতাশ হয়ে গেছি। দেখি এখন কত টাকা পাই। যা হবে তাই দিয়ে শেষ রাতে বাবার জন্য পাঞ্জাবী ও মায়ের জন্য শাড়ি এবং ঈদের দিনের জন্য সেমাই-চিনি, গোশত আর পোলাও এর চাল কিনে নিয়ে বাড়ি যাব। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন গতবারের তুলনায় পোশাকের দাম বেশ বেড়েছে।
তাবাসসুম হোসাইন নামের এক ক্রেতা জানান দুই বছর আগের ৫০০ টাকার জিনিস এখন ১২০০ টাকা দাম চাচ্ছে। যে থ্রি পিসটা আগে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া যেত সেটা এখন চাচ্ছে ৩৫০০ টাকা। বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের।
সোহাগ আহমেদ নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাগেরহাট শহর থেকে কিছু কিনতে চাই না। কারণ এখানে ৬শ টাকার শার্ট ১২শ টাকায় বিক্রি হয়। খুলনার তুলনায় বাগেরহাটে প্রায় ৫০ শতাংশ দাম বেশি নেয়। এই কারণে বেশিরভাগ ক্রেতা খুলনা চলে যায়। শুধু জেলা শহরেই নয় উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটেও দেখা গেছে একই চিত্র। দোকানগুলোতে তেমন ভীড় নেই। বেচা বিক্রিও কম। মেয়েদের সিল্ক, বেনারসি, টাঙ্গাইল প্রিন্ট, জামদানি ও কাতান শাড়িসহ থ্রি-পিস, সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, ছিট-কাপড় এবং ছেলেদের পাঞ্জাবী, পাজামা, ফতুয়াসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টি-শার্ট, জিন্স-প্যান্ট, গ্যাবাডিং-প্যান্ট, হাফ শাট ও গেঞ্জিসহ বাহারী সব পোষাক থাকলেও করোনার বছর গুলোর চেয়ে বেচা-কেনা কম।প্রসাধনী ও গহনার দোকানগুলোকে মনকাড়া ডিজাইনে সাজানো হলেও ভাটা পড়েছে তাদের বিক্রিতেও।
রমজানের শেষের দিকে এসে শরণখোলা, কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, মোংলাসহ বিভিন্ন বাজারে কিছু ভীড় রয়েছে। তবে বো-বিক্রি খুব একটা বেশি না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত