পঞ্চগড়ে বৃৃষ্টির অভাবে কৃষক সেচ দিতে পারছে না ফসলি জমিতে 

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৭ মে ২০২৪, ১৯:৫৯ |  আপডেট  : ১০ জুন ২০২৪, ১৫:০২

 পঞ্চগড়ে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুদফায় মাত্র চার মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেতুঁলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে গতবছরের অক্টোবরে আশানুরুপ বৃষ্টিপাত হওয়ায় আবাদি জমি বেশ উর্বরও ছিল। কিন্তু টানা খরার কবলে এখন পানির স্তুর নি¤œমূখি হয়ে পড়েছে। 

পরিবেশ বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র চার মিলিমিটার বৃষ্টি আবাদি জমি তার উর্বরতা ধরে রাখলেও পানির স্তুর নিচে নেমে যাওয়ায় সেই বৃষ্টির প্রভাব জমি ও নয়নজলি বা জলাশয়ে নেই।দুই/তিন ধরে রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। 

মঙ্গলবার তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিস জানায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেন ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।সোমবার সারাদিন আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হয়নি জেলার কোথাও।এদিকে মঙ্গলবার সকালের দিকে আকাশে হাল্কা রোদের আনাগোনা দেখা গেলেও পড়ন্ত বিকেলের আগে আবারো আকাশে মেঘ দেখা যায়।

এছাড়া একটানা খরার কারনে এরই মধ্যে মাঠ-ঘাট শুকিয়ে গেছে।মরিচ, ভূট্রা , বাদাম নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা। বোরো ধানে এখন পানির প্রয়োজন না থাকলেও বর্তমান জমির অন্যান্য ফসলে পানি দরকার।সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের বামনের কামাত পাড়া এলাকার কৃষক সুরেন রায় বলেন আমি ছয় বিঘা জমিতে বাদাম ও এক বিঘা জমিতে ভূট্রা রোপন করেছি। বৃষ্টি না হওয়ায় বাদাম ভূট্রা নিয়ে চিন্তায় আছি। সেচ দিচ্ছি তো মাটির নীচের গরম উঠে গাছ জ্বলে যায়। বৃষ্টি না হলে ফসলের ফলন ভালো হবেনা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,এবার জেলায় ২৮ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমিতে ভূট্রা, ৯ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে বাদাম, ৮ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমিতে মরিচ ও ১৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। তবে গতবার ভূট্রার আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে।গম আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে। বাদামের আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে।

এদিকে পঞ্চগড় জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, এই খরা অব্যাহত থাকলে বিশেষ করে মরিচের ক্ষতি হবে। বৃষ্টি না হওয়ায় পানির স্তর নীচে নেমে গেছে। ক্যানেল গুলো শুকিয়ে গেছে। কৃষক তার জমিতে সেচ দিতে পারছেনা। তবে সব জায়গায় নয় কিছু কিছু জায়গায়। কৃষকরা আকাশের পানির দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু কিছু ফসল আছে ‘ যেগুলোর শিকড় উপড়ের দিকে সে সব ফসলে পানি লাগে।

এদিকে তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক সামিউজ্জামান জানান আজকালকের মধ্যে বৃষ্টিপাত হবে। সাথে ঝড়বৃষ্টির সম্ভবনা ও আছে। তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে মঙ্গলবার পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে তাপমাত্রা৩৬ ও ৩৭ ডিগ্রিতে ওঠানামা করে। তবে এ মৌসুমে ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।  
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত