গ্রিসে বাংলাদেশি ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ, ৬০টি মসজিদ বন্ধের ঘোষণা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ |  আপডেট  : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৭

গ্রিসে অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন মসজিদ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এরই মধ্যে অনুমোদনহীন ৬০টি মসজিদ চিহ্নিত করা হয়েছে, যে তালিকায় বাংলাদেশিদের পরিচালিত ২০ থেকে ২৫টি মসজিদ রয়েছে। এতে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয়নবিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির সভায় জানান, নতুন ‘ল ৫২২৪/২০২৫’-এর ২৮ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে অনুমোদনহীন উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এরই মধ্যে এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় একটি বেজমেন্টে পরিচালিত মসজিদ সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ইমামের রেসিডেন্স পারমিট (বসবাসের অনুমতি) বাতিল করে তাকে সরাসরি ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় নাগরিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

গ্রিস সরকারের ভাষ্যমতে, এথেন্সের ভোটানিকস এলাকায় অবস্থিত সরকারি মসজিদটিই মুসলিমদের জন্য একমাত্র অনুমোদিত স্থান। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, সরকারি এই মসজিদটি অভিবাসীদের মূল বসতি এলাকা থেকে অনেক দূরে। ফলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এ কারণেই তারা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ফ্ল্যাট বা বেজমেন্ট ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী মসজিদ পরিচালনা করে আসছিলেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে জরুরি সভা করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিসের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রমজানে ইবাদত নির্বিঘ্ন রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি আইনি সমাধানে পৌঁছানো। আমরা অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসবো।”

সাধারণ প্রবাসীরা আশঙ্কা করছেন, রমজানে মসজিদগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তারাবি ও ঈদের নামাজ আদায় করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।তারা আশা করছেন, গ্রিস সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত রমজান মাসের জন্য একটি সাময়িক শিথিলতা প্রদর্শন করবে।

এদিকে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করবেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেবেন।

জানা গেছে, এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় ভাড়া নেয়া একটি বেজমেন্টে ওই বাংলাদেশি নাগরিক মসজিদ হিসেবে পরিচালনা করে নিজে ইমামতি করতেন। সেখানে ওই এলাকায় বসবাসরত মুসলিম অভিবাসীরা নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। জুমার দিন সেখানে বেশি লোক সমাগম হতো। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের পর স্থানীয় থানার পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থানটিকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে সিলগালা করে। পরে আদালত তাকে অনুমতি ছাড়া নামাজ পরিচালনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত