কাউনিয়ায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ আঠিয়া কলা উৎপাদনে কৃষি বিভাগ উদাসিন
সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৬ | আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৬
কাউনিয়ায় ভিটামিন সমৃদ্ধ গ্রামীন ঐতিহ্য আঠিয়া কলা দিন দিন বিলুপ্তির পথে। আঠিয়া কলা রক্ষায় কৃষি বিভাগ নির্বাক দর্শকের ভুমিকায়। একটা সময় ছিল যখন রংপুরের কাউনিয়ায় প্রতিটি গ্রামে বিশেষ করে গৃহন্থ পরিবার গুলো প্রচুর আঠিয়া কলা চাষ করতেন। অনেকে আবার রাস্তার ধারে এমনিতেই লাগিয়ে রাখতেন। এই কলার চাহিদাও ছিল প্রচুর। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরুর পর থেকে কৃষি বিভাগরে উদাসিনতায় ধিরে ধিরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ভেষজগুণ সমৃদ্ধ আঠিয়া কলা বিলুপ্তির পথে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখাগেছে রাস্তার ধারে কিছু আঠিয়া কলা গাছ দেখা গেলেও গৃহস্থ বাড়ি গুলোতে তেমন একটা চোখে পরেনি। কাউনিয়ায় উৎপাদিত আঠিয়া কলা বিখ্যাত ছিল। উপজেলায় উৎপাদিত আঠিয়া কলা যেত দেশের বিভিন্ন জেলায়। ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ আঠিয়া কলা গ্রামের কৃষক পানতা ভাত, চিড়া মুড়ি মেখে খেয়ে মাঠে কাজে নেমে পরতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই ঐতিহ্য হরাতে বসেছে। গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে, আঠিয়া কলা ও চিড়া মেখে খেলে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া ভাল হয়। তালুকশাহবাজ গ্রামের কৃষক আঃ মোতালেব জানান, আগের দিনে জমি চাষ করতে যাওয়ার আগে পানতা ভাত, চিড়া মুড়ি আঠিয়া কলা মেখে খেয়ে মাঠে যেতাম। এখন আর গরু মহিষের হালও নেই আটিয়া কলা দিয়ে পানতা ভাত বা চিড়া মুড়ি খায়াও নেই। সাধু গ্রামের রফিকুল চৌধুরী জানান, দেশি আঠিয়া কলা (বিচি কলা) এক সময়র জনপ্রিয় খাবার ছিল। আমি ছোট থেকে প্রতিদিন সকালে আঠিয়া কলা দিয়ে ভাত খেতাম। গ্রামে যদি কারো পাতলা পায়খানা হয় তাহলে আঠিয়া কলা আর চিড়া খেলে ভাল হয়ে যেত। বালিকা বিদ্যালয় মোড়ের ফলা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, আঠিয়া কলার চাষ না হওয়ায় এখন কলা কম পাওয়া যায়। যদিও কিছু কিছু গ্রামে আটিয়া কলা পাওয়া যায় তবে দাম অন্য কলার চেয়ে বেশী। হলদীবাড়ি গ্রামের কৃষক মানিক জানান, কৃষি বিভাগ থেকে আঠিয়া কলা চষে উদ্ভুদ্ধ করলে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য যেমন টিকে থাকবে অন্য দিকে কৃষক লাভবান হতো। কলাগাছ রাস্তার ধার, পুকুর ও নদীর পাড় ভাঙ্গন রোধে ভুমিকা রাখে। সরকারী বা কৃষি বিভাগ থেকে আঠিয়া কলা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে না। তাদের উদাসিনতায় হারিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। ডাঃ মেহেদী জানান, একটি বড় মাপের আঠিয়া কলা খেলে ১০০ ক্যালরির বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কলায় প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম, নাইট্রোজেন এবং ফসফরাস থাকে, যা শরীরের স্বাস্থ্যকর টিসু গঠনে কাজ করে। কলাতে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা। শর্করা পরিপাকতন্ত্রকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে। আঠিয়া কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ নিশ্চিত করে। এ কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে। পটাসিয়াম মানুষের অবসাদ দুর করে। এ কলা ভিটামিন এ, বি৬, সি এবং ডি এর একটি অসাধারণ উৎস এবং প্রচুর লৌহ থাকে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার জানান, পরিত্যাক্ত জমির পরিমান কমে যাওয়া ও আধুনিক পদ্ধতিতে হাইব্রীড কলা চাষ শুরুর পর থেকে আঠিয়া কলা চাষ কমে গেছে। সাধারনত কলা বীজবিহীন ফল হলেও ব্যতিক্রমধর্মী এ কলায় প্রচুর বীজ থাকে। বিচি বেশি হওয়ায় কেউ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে না। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে আটিয়া কলা টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত