ইদে প্রিয়জনকে যা উপহার দিতে পারেন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৪:১৮ |  আপডেট  : ২০ মে ২০২৪, ২৩:৪৬

ইদ মানেই আনন্দ! খুশির ছটা চারপাশে। ইদ মানে পারস্পারিক হৃদ্যতা আরও একটু বাড়িয়ে নেওয়া। এক মাস সিয়াম সাধনার পর সবাই চায় পরিবারকে নিয়ে ইদের আনন্দ উপভোগ করতে। সেই আনন্দের মাত্রাকে আরো একধাপ বাড়িয়ে দিতেই কিনা অনেকেই চায় গোপনে না জানিয়ে পরিবারের মানুষকে, প্রিয়জনকে, বন্ধু-বান্ধবকে কিছু উপহার দিতে। ইদ এলে তাই উপহার দেওয়া-নেওয়া চলে প্রিয়জনদের মধ্যে। এই উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ভালোবাসার জানান দেওয়া হয়। ইদের উপহার হিসেবে কিন্তু অনেকেই মনে করে ড্রেস ছাড়া কিছু দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এতে রয়েছে বেশ জটিলতা! একেকজন মানুষের রঙ, ডিজাইন, সাইজ, বৈচিত্র্য, ম্যাচিং সেন্স ইত্যাদি একেকরকম। তবুও সবাই চায় সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে সুন্দর উপহারটি প্রিয়জনের হাতে তুলে দিতে। 

ইদের উপহারে সবার আগে যাদের কথা মাথায় আসে তা হলো বাবা-মা। বাবাকে দিতে পারেন তার প্রিয় লেখকের বই বা মিউজিক সিস্টেমসহ তার পছন্দের গায়কের গানের সেট। কাঁধের কোণে একখানা চাদর রাখার অভ্যাস করা বাবাকে নতুন একখানা চাদরও গিফট করতে পারেন। বদলে দিতে পারেন বাবার অনেক দিনের ব্যবহার করা পুরনো ভারী ফ্রেমের চশমাটিও। মা কে দিতে পারেন হ্যান্ড ব্যাগ , শাড়ী কিংবা রান্নার ক্রোকারিজ । নতুন একটি পানের বাটা বা গয়নার বাক্সও মার মুখে হাসি ফোটাতে পারে এই ঈদে খুব সহজেই।

পোশাক

ইদের উপহারের মধ্যে পোশাক সবেচয়ে বেশি প্রচলিত। ইদে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে চাইলে তার জন্য মানানসই একটি পোশাক উপহার দিতে পারেন। তবে পোশাক কেনার আগে তার পছন্দের ধরন জেনে নিন। অথবা তার কোন ধরনের পোশাক প্রয়োজন তা জেনে নিন। সে অনুযায়ী উপহার দিন।

জুয়েলারি

ইদের উপহারের মধ্যে জুয়েলারি বেশ গ্রহণযোগ্য। ইদে পোশাক ছাড়াও নতুন জুতা, ঘড়ি, চুড়ি, ব্রেসলেট, গলার মালা কিংবা হার, চশমা, বেল্ট, মানিব্যাগ ইত্যাদি হলে মন্দ হয় না। তাই এখান থেকে প্রিয়জনের জন্য মানানসই উপহারটি কিনে দিতে পারেন। ইদে আপনার সঙ্গিনীকে উপহার হিসেবে বানিয়ে দিতে পারেন স্বর্ণের নূপুর বা একজোড়া চুড়ি। বাজেট কম হলে রূপা দিয়েও বানাতে পারেন। 

কুকওয়্যার

গৃহিণীরা সবচেয়ে বেশি খুশি হয় সম্ভবত কুকওয়্যার পেলে। তাই এই ঈদে উপহার হিসেবে প্রিয়জনকে এ জাতীয় কিছু দিতে পারেন। তাতে ইদের সুস্বাদু রান্নায় সেটি কাজে লাগবে। আবার সুন্দর কুকওয়্যার সেট পেলে প্রিয়জনের মুখে হাসিও ফুটে উঠবে।

জুতা, ব্যাগ , মেকাপ সামগ্রী

ইদ এলেই জামার সাথে জুতা তো লাগবেই। তাই প্রিয়জনকে উপহার দিতে পারেন ব্রান্ড কিংবা ননব্রান্ডের সু। কারো ভার্সিটির নতুন ব্যাগ চাই, কারো নতুন কোনো মেকআপ বক্স চাই, কেউবা চায় নিজের যত্নের জন্য স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট। যেমন ক্লেঞ্জার, টোনার , শীট মাস্ক, সিরাম, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ইত্যাদি। 

ইলেকট্রনিক গ্যাজেট 

অনেকে উপহার হিসেবে অন্যান্য জিনিসের চেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেলে বেশি উৎফুল্ল হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তালিকায় বেশিরভাগ সময় থাকে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। এ ধরনের উপহার দিতে গেলে অবশ্য প্রিয়জনের পছন্দ-অপছন্দ বিশেষ করে ব্র্যান্ডের বিষয়টি না জানলেই নয়। ইদে ইলেকট্রনিক গ্যাজেটে অধিকাংশ ব্র্যান্ড ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা দেয়। তাই এ সুযোগে বাজেটের মধ্যে টিভি, ফ্রিজ ছাড়াও উচ্চমানের স্মার্টফোন, ইয়ারফোন, স্মার্টওয়াচ, ক্যামেরা, স্পিকার উপহার দেওয়া যায়। 

হ্যান্ডমেড গিফট

ইদ এলেই মনে পড়ে ছোটবেলায় বন্ধু, আত্মীয়, প্রিয়জনদের ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের স্মৃতিকথা। প্রিয়জনকে চাইলে এবারের ইদে সেই হারিয়ে যাওয়া অনুভূতির স্পর্শ দেওয়া যেতে পারে। অন্যান্য উপহারের চেয়ে বরং চারু ও কারুশিল্পের আভিজাত্যই বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলবে তাকে। বাজার থেকে টুকিটাকি জিনিসপত্র এনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে বানিয়ে ফেলতে পারেন ইদ কার্ড, ট্রিট ব্যাগ, হ্যান্ডমেড বাক্সসহ নানা কিছু। আপনার সৃজনীশক্তি দিয়ে সুগন্ধি সাবান বা মোমবাতি বানিয়েও চমকে দিতে পারেন প্রিয় মানুষকে। 

ঈদ সালামি

ঈদের দিন নামাজ শেষে বাড়ি ফিরলে মেটাতে হয় পরিবারের ছোট থেকে বড় সব সদস্যের ঈদির আবদার। অনেকে শখের জিনিস কেনার বাজেটের জন্য উপহার হিসেবে নগদ অর্থ পেলে বেশি আনন্দিত হয়। আর এই আনন্দ বাড়িয়ে দেওয়া যায় মানি হোল্ডার কিংবা কাস্টমাইজড খামের মাধ্যমে। অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় নানা রকমের ঈদি বা সালামি হোল্ডার, খাম। নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন ইদি কার্ড।

সালামি হিসেবে দিতে পারেন বিভিন্ন গিফট কার্ড। আড়ং গিফট কার্ড, দারাজ গিফট কার্ড, গুগল গিফট কার্ড, ব্যাংকের শপিং কিংবা প্রিপেইড গিফট কার্ড। 

 

সর্বোপরি আপনি চাকরিজীবী হোন বা ব্যবসায়ী হোন বা স্টুডেন্ট; ইদের আনন্দে শামিল হতে নিজেকে কিছু উপহার দিতে ভুলবেন না।

সা/ই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত