আমার অনুপ্রেরণা

  রোকশানা আক্তার

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪:০২ |  আপডেট  : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২৩:৩১

আমি যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমাদের বাংলা ১ম পত্র পড়াতেন নাদিরা আপা। আপা যখন পড়াতেন তখন আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতাম আর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম আর ভাবতাম আপা এত সুন্দর করে কিভাবে পড়ায়। আমি কি কখনো আপার মতো পড়াতে পারবো? এরপর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ভর্তি হয়ে পেলাম সুরভী আফরোজ ও বিলকিস বানু আপাকে। বিলকিস আপা আমাদের ইংরেজি পড়াতেন। আপা যখন আমাদের ক্লাসে এসে পড়ানো শুরু করতেন তখন পিন পতনের শব্দটাও হতো না। আর সুরভী আপার ডাক হরকরা কবিতা আজও কানে ভাসে। নাদিরা আপা এবং বিলকিস বানু আপা ছিলেন খুবই সাদামাটা। তারা শাড়ি পড়তেন আর ছোট কানের দুল ও গলায় চিকন চেইনের সাথে একটি ছোট লকেট পড়তেন। কখনো তাদের ঠোঁটে লিপিস্টিক দেখিনি। তবুও তাদের অনেক পরিচ্ছন্ন ও ছিমছাম লাগত। এক কথায় খুবই স্মার্ট ছিলেন তারা। আপাদের দেখে মনে মনে ভাবতাম আমি যদি শিক্ষক হতে পারতাম! 

সিটি কোচিং সেন্টারে পেয়েছিলাম আমার শ্রদ্ধেয় গিয়াস উদ্দিন স্যারকে যিনি লাল গাড়িতে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি) চড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। যদিও সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে কিভাবে জেগে স্বপ্ন দেখতে হয় সেটা শিখিয়েছিলেন। ছাত্রজীবন চলাকালীন আমি প্রবেশ করি সংসার জীবনে। এখানে এসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন। তেমনি আমি একজন ভাগ্যবতী নারী যার শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে আমার স্বামী মোঃ আজিম উদ্দিন। যার অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাহায্যের বিনিময়ে আমি একজন শিক্ষক। সে না চাইলে আমি হয়তো গৃহিণীই থেকে যেতাম। ২০১০ সালে আমি চাকরীতে প্রবেশের পর প্রথম যে ব্যক্তিকে দেখে আমি বিমোহিত হই সে হলেন মরিচাদী সপ্রাবি এর প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি

আবুল কাশেম হাওলাদার স্যার। স্যারের সাথে ২০১৪ সালে লিডারশীপ প্রশিক্ষণ করি তখন স্যারের বয়সের সাথে তার কর্মকাণ্ডের বিস্তর তফাৎ ছিল। স্যারকে দেখলেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সবুজের অভিযান' কবিতার সেই চরণ দুটো “ওরে নবীন ওরে আমার কাঁচা আধ মরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা” মনে পড়ে যেতো। তাকে আমি চিরসবুজ বলে ডাকতাম। শিক্ষকতার অনেক কিছুই আমি স্যারের কাছ থেকে শিখেছি। সবশেষে আমার অনুপ্রেরণার আরেকজন ব্যক্তিকে আমি স্মরণ করি। সে হলো আমার শ্রদ্ধেয় বড় আপা শবনম শিউলি। আপার সাথে মিশেও আমি অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি এবং বুঝেছি। আমি সর্বদাই চেষ্টা করি যেখানে যাই সেখানেই নতুন কিছু গ্রহণ করার জন্য। চেষ্টা করি শ্রেণিকক্ষে নতুন কিছু প্রয়োগের জন্য। আমি জানি না আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমণ্ডলীরা আজ কোথায় এবং কেমন আছেন। সময়ের বিবর্তনে আমি তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারিনি কিন্তু আমি নতঃশিরে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাদের। তারাইতো আমার অনুপ্রেরণা। আমিও পরপারে গিয়ে কারো না কারো অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

 

লেখকঃ রোকশানা আক্তার

প্রধান শিক্ষক,দক্ষিণ মেদিনী মণ্ডল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত