হাইকোটের আদেশ থাকা স্বত্বেও
আদমদীঘিতে ব্যক্তি নামে নামজারি বাতিলে গড়িমসি এসিল্যান্ডের
মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম (উজ্জল), আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩৯ | আপডেট : ১ মার্চ ২০২৬, ২১:১৭
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার পাল্লা-কুসম্বী শ্মশানের ৩৭ শতক পুকুর ব্যক্তি নামে নামজারি বাতিলের হাইকোর্টের আদেশ থাকলেও আদমদীঘি সহকারি কমিশনার ভ‚মি মাহমুদা সুলতানা দীর্ঘ দিন ধরে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বগুড়া জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, সংশ্লিষ্ট জমি ১/১ খতিয়ানভুক্ত এবং সেখানে সরকারি স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তবে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্তে¡ও নামজারি বাতিলের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় স্থানীয় হিন্দু স¤প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে দ্রæত আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন তারা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নালিশী ‘ক’ তফসিলভুক্ত ১৪২ দাগের ৩৭ শতক সম্পত্তি সি.এস খতিয়ানে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারি আমল থেকে পাল্লা, কুসম্বী ও সুদিন গ্রামের হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন উক্ত শ্মশান পুকুরটি মৃতদেহ সৎকারের কাজে ব্যবহার করে আসছেন। দীর্ঘদিন পর, ২০১৬ সালে কুসম্বী গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দীনের ছেলে জিল্লুর রহমান ওই ৩৭ শতক জমি নিজের দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক পুকুরের মাঝখানে পাড় বেঁধে জমিটি দখল করেন।
পরবর্তীতে একই বছর তিনি বাদী হয়ে বগুড়া জেলা যুগ্ম জজ আদালতে বগুড়া জেলা প্রশাসক, আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পাল্লা-কুসম্বী শ্মশান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ৬ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত বাদীর আরজি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, শ্মশান পুকুরের ৩৭ শতক জমি সি.এস খতিয়ানে সর্বসাধারণের ব্যবহার্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। সি.এস ও এম.আর.আর খতিয়ানে কোনো ব্যক্তি মালিকের নাম নেই এবং সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যও সংযুক্ত করা হয়নি। এসব বিবেচনায় ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। জেলা যুগ্ম জজ আদালতে মামলা খারিজ হওয়ার পরও দখল না ছাড়ায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে হিন্দু স¤প্রদায়ের পক্ষে কুসম্বী গ্রামের বকুল উদ্দীন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশন নম্বর ১৩৭৪৮/২০২৫ হিসেবে তা লিপিবদ্ধ হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ জিল্লুর রহমানের নামে করা সকল নামজারি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা কমিশনারকে আদেশ প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুগ্ম জজ আদালতের মামলাটি খারিজের আদেশ এবং হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশ থাকা সত্তে¡ও ব্যক্তি নামে করা নামজারি বাতিল করতে গড়িমসি করছে আদমদীঘি সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মাহমুদা সুলতানা। প্রশাসনের এমন বিলম্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় হিন্দু স¤প্রদায়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত