আজ আন্তর্জাতিক কারারুদ্ধ লেখক দিবস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:২১ |  আপডেট  : ১৪ জুলাই ২০২৪, ১৪:১২

আজ আন্তর্জাতিক কারারুদ্ধ লেখক দিবস। লন্ডনভিত্তিক লেখকদের সংগঠন ‘আন্তর্জাতিক পেন’ ১৯৮১ সালে এই দিবসটি উদযাপন শুরু করে। পৃথিবীর অনেক বড় বড় লেখক, চিন্তাবিদ, দার্শনিক কিংবা মহান কবিদের ক্ষমতাধর শাসকগোষ্ঠী,রাজা বা শোষকদের নিষ্ঠুর বৈরীতা বা রক্তচক্ষুর মোকাবিলা করতে হয়েছে। বহু সুপরিচিত কবির অনেক মহান সৃষ্টি সংশ্লিষ্ট দেশের শাসক কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছে।

সারা বিশ্বে অসংখ্য লেখক প্রতিবছর কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। কারও কারাবন্দি জীবন দশক ছাড়িয়েও যায়। তাই এসব বিপদগ্রস্ত লেখকদের স্মরণ করা এবং তাদের মুক্তির ব্যাপারে জনমত গঠনই এই দিবসটিকে পালনের মূল উদ্দেশ্য। পেন আরও একটি কাজ করে এই দিবসকে ঘিরে। এই কার্যক্রমের প্রতি সহমর্মী ও সমব্যাথী লেখক পাঠক সকলে মিলে দুনিয়ার নানা প্রান্তের বন্দি লেখকদের কারাগারের ঠিকানায় তাদের নামে শুভেচ্ছা কার্ড পাঠিয়ে থাকে।

দিনেমার দার্শনিক সৌরেন কিয়ের্কে গার্ড বলে গেছেন, সত্য প্রকাশ মানে আগুনে হাত দেওয়া। আর আগুনে হাত দেয়া মানে হাত পুড়ে যাবে। লেখকের কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা। আর যে সমাজে রাষ্ট্রে লেখকের হাতকে আগুন থেকে বাঁচানোর রক্ষা কবচ থাকে না সেখানে লেখকেরা কারাবন্দি হয়ে থাকেন। এরকম কারাবন্দি হবার ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়।

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস তার বড় নিদর্শন। তিনি সত্য প্রকাশ করে কারাবন্দি হয়েছেন, শেষতক মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত মেনে নিয়েছেন। তবুও সত্য থেকে বিচ্যুত হননি। এখানেই শেষ নয়, সত্য প্রকাশের দায়ে কাজী নজরুল ইসলামসহ কল্লোল যুগের লেখক কালি-কলমের মুরলীধর বসু এবং শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় কারাবন্দী হয়েছেন। এমনকি খড়গ রবীন্দ্রনাথের দিকেও তাক করা ছিল। তবে সেই সময়ের সত্য প্রকাশের ধাঁচ আর হাল আমলের প্রবণতা এক জিনিস নয়।

হোমারের কালজয়ী সৃষ্টি ওডিসীর পঠন নিষিদ্ধ ছিল। চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের মতামত, তাঁর সময়ের তাঁর দেশের শাসকগোষ্ঠী আক্রমণ করেছিলেন। নিঃসন্দেহে আমরা যদি আরেকজনের নাম এই তালিকায় যোগ না করি তা অসম্পূর্ণ থাকবে। তিনি আর কেউ নন, সকল রকম শোষণের বিরুদ্ধে অশেষ নির্ভীক কণ্ঠস্বর আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

ভারতীয় উপমহাদেশে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি লিখিত দলিলের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করেছিলেন। নজরুল তাঁর ‘রুদ্রমঙ্গল’ (১৯২৬)-এ প্রকাশিত ধূমকেতুর পথ রচনায় লিখেছেন, “একটি মাত্র টুকরো ভারতীয় ভূমিও বিদেশীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না। ভারতীয়দের পরিচালনার দায়িত্ব ভারতীয়দের হাতে থাকবে। এ বিষয়ে কোনও বিদেশির অধিকার নেই আমাদের নির্দেশ করার। যারা ভারতের রাজা বা স্বৈরশাসক হয়েছে এবং এই ভূমিকে শ্মশানে পরিণত করেছে, তাদের তল্পি-তল্পাসহ সাগর পাড়ি দেয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ”

 

সান

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত