আইএমএফের চাপ নেই, উপায় না পেয়েই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে: পরিবহনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৩৯
তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করে উপায় না পেয়েই তেলের দাম সমন্বয় করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ অভ্যত্মরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য আইএমএফের চাপ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইএমএফের চাপ আছে বলে করি না। আমরা প্রতিনিয়ত ভর্তুকি দিচ্ছিলাম, এখন উপায় না পেয়েই তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আমার ধারণা জনগণ সেটা ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। মনে রাখা দরকার আমরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করি।
এছাড়া পাচার ও ভর্তুকি এড়াতেও সরকার তেলের দাম সমন্বয় করেছে বলেও জানান মন্ত্রী। তেলের দামের সাথে বাস ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। যদি তেলের দাম আবার কমে যায় কোনো আলোচনা ছাড়াই ভাড়াও কমে যাবে। সেক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করলেই হবে। আর কোনো কর্তৃপক্ষের সাথে বসার প্রয়োজন হবে না।
তবে শুধু ডিজেলচালিত বাসেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ভাড়া যেহেতু বাড়েনি, অতএব গ্যাসচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়বে না। যদি বিচ্যুতি ঘটে আমাকে জানান, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া বাড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করা হবে উল্লেখ করে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশার দৌরাত্ম্য সব জায়গায় আছে, যা জনজীবন বিপর্যস্ত করছে। ঢাকা শহরের যান চলাচল, যানবাহনের শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রধান প্রধান সড়ক, প্রধান প্রধান এলাকা পর্যায়ক্রমে অটোরিকশা প্রবেশ নিষেধ করা হবে। তবে এই প্রক্রিয়াটা অনুসরণের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমরা মনে করছি, ঢাকা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। ঢাকাকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা বৈশ্বিক তেলের বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গত ১৮ এপ্রিল রাতে দেশের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, গত ১৯ এপ্রিল থেকে পাম্পগুলোতে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়।
এছাড়া প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর বেড়ে যায় পরিবহন ভাড়াও। সরকারি সিদ্ধান্তে গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয় বাস ও মিনিবাসের নতুন ভাড়া। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আন্তঃজেলা রুটেও প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানো হয়।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত