সুবর্ণজয়ন্তী যখন অপরাজনীতির শিকার 

  মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২১ |  আপডেট  : ২০ জুন ২০২১

২৬ মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পালিত না বলে বরং অতিবাহিত হয়েছে বলাই যুক্তিসঙ্গত। কেননা, একটি জাতির স্বাধীনতা প্রাপ্তির পঞ্চাশ বছরপূর্তিতে যে ধরনের আবেগ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা, সেভাবে তা পরিলক্ষিত হয়নি। করোনা পরিস্থিতির এর একটি বড় কারণ হলেও রাজনৈতিক  দলগুলোর অনৈক্যই মূলত দায়ি। 

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরপূর্তিতে জনমনে প্রত্যাশা ছিল, এবারের দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে আমরা ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপনে সক্ষম হবো। আমাদের উদ্যোগ-আয়োজনে দিবসটি হয়ে উঠবে বাঙময়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, জনমনে সি ত সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।  যে প্রণোচ্ছল পরিবেশ আমরা আশা করেছিলাম, তার অনেকখানিই  ছিল অনুপস্থিত। ফলে একরকম প্রাণহীন পরিবেশেই পার হয়েছে পঞ্চাশতম স্বাধীনতাবার্ষিকী।

 এটা ঠিক যে, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক অনুষ্ঠানই যথাযথভাবে আয়োজন করা যায়নি। কেননা, ভার্চুয়ালি অন্য অনেক কাজ করা সম্ভব হলেও আনন্দ ভাগাভাগি করা সম্ভব না। তার ওপর প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামসমহ কতিপয় ধর্মীয় সংগঠন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা ছিল অনাকাক্সিক্ষত ও ন্যক্কারজনক। কেননা, ব্যক্তি মোদীকে বাংলাদেশ আমন্ত্রণ জানায় নি, জানিয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। আজ যদি মোদীর পরিবর্তে অন্য কেউ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত থাকতেন, তহলে তিনিই অমন্ত্রিত হতেন। নরেন্দ্র মোদী বা তার সরকার সে দেশে কী করেছেন বা করছেন, তা নিয়ে আমাদের এতটা উত্তেজিত হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে বলে মনে হয় না। হ্যাঁ, গ্লোবাল ভিলেজের অংশ হিসেবে যেকোনো দেশে সংঘটিত মানবাধিকার বিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করার অধিকার আমাদের রয়েছে। তাই বলে আমাদের একটি গৌরবময় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আসা একজন বিদেশি সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে এধরনের উন্মত্ত প্রতিবাদ কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে বড় কথা, ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বড় সহয়াতাদানকারী দেশ। সঙ্গত কারণেই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব সেদেশ এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রীয় মেহমান হয়ে আমাদের দেশে আসবেন, তখন তাকে সম্মান জানানোই আমাদের দায়িত্ব। মনে রাখা দরকার, হেফাজতে ইসলাম মোদীবিরোধী কর্মসূচি দিয়ে প্রকান্তরে ভারতের জনগণকেই অসম্মানিত করেছে; যে ভারতের জনগণ একাত্তরে আমাদেরকে প্রকৃত বন্ধুর মতোই আশ্রয় দিয়েছিল। হতে পারে নরেন্দ্র মোদী বা তার সরকার তাদের কর্মকান্ডের জন্য ভারতবাসীর কাছে অপছন্দের। তাই বলে আমরা কি অধিকার রাখি ভিন দেশের একজন সম্মানীয় অতিথিকে এভাবে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করার? যারা এটা করেছে, তারা প্রকান্তরে স্বাধীনতা দিবস বা স্বাাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর  ভাবমর্যাদাকেই ক্ষুন্ন করেছে।  

এখানে একটি বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতেই হয়। হেফাজতে, ইসলাম নামের ধর্মীয় সংগঠনটির আদর্শ-উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এটা আসলে কোন ধরনের সংগঠন? এটা কি রাজনৈতিক সংগঠন? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এই সংগঠনের নেতাদের ঝেড়ে  কাশা উচিত। নিজেদেরকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের মতো কায়কারাবার ও আচরণ করা বর্ণচোরানীতিরই বহিঃপ্রকাশ। স্মরণযোগ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে এই সংগঠনটির একটি হঠকারি কর্মসূচির কারণে কী রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। ওই তাণ্ডবের কারণে জনজীবনে যেমন চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছিল, তেমনি প্রাণ গিয়েছিল কিছু মানুষের। সবচেয়ে আশ্চর্যেরে বিষয় হলো, সে রাতে আহত-নিহতদের ব্যাপারে হেফাজত পরবর্তীতে আর মুখ খোলেনি। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছোট ছোট এতিম বাচ্চাদের সরকারি বহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া আর যাই হোক মনুষ্যত্বের পর্যায়ে পড়ে না। নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমন ঠেকানোর নামে এবারও এক অপরিনামদর্শী আন্দোলনের নমে সংগঠনটি চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যার করুণ শিকার হয়েছে নয়টি প্রাণ। বিদেশি একজন অতিথির আগমন ঠেকাতে  দেশের প্রত্যন্ত অ লের একটি থানায় হামলা করাকে আর যাই হোক যৌক্তিক কাজ বলার উপায় নেই। হেফাজতের বিগত দিনের কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে সংগঠনটিকে মতলববাজ এবং ঘোলা পািনিতে অজ্ঞাত মাছ শিকারের ফিকিরে থাকা সংগঠন না বলে উপায় নেই। কেননা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় নি, সেখানে একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে এই কথিত অরাজনৈতিক সংগঠনটি কেন এত  মারমুখি হয়ে উঠেছিলা তা অবশ্যই ভাববার বিষয়। 

অন্যদিকে সুর্বজয়ন্তীর ঘটনাবলী যদি পর্যালোচনা করা হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, ১৯৭১-এ আমরা দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে যতটা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, পঞ্চাশ বছর পরে ততোটাই অনৈক্যের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় দ্বিধাবিভক্ত। জাতীয় স্বাার্থের প্রশ্নেও তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছে।  বিশেষত প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী  লীগ ও বিএনপির অবস্থান এক্ষেত্রে একেবারে বিপরীত মেরুতে। এমন একটি ইস্যু দেখানো যাবে না, যে ইস্যুতে এ দুটি দল কখনো একমত পোষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে এ দু’দলের টানাঁহেচরা সচেতন মানুষদের কাছ পীড়াদায়ক বলেই মনে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, জনগণের  কাছে পীড়াদায়ক মনে হলেও তারা এসবের থোড়াই কয়ার করে। একটি দেশে রাজনৈতিক বিভক্তি থাকা বিচিত্র কিছু নয়। বরং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় তা অনস্বীকার্য। তবে তা অবশ্যই সীমিত থাকতে হবে দলসমূহের রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য অতীব জরুরি। একটি জাতির জীবনে এমন কিছু বিষয় থাকে, যেগুলোকে রাখতে হয় সবরকম বিতর্কের উর্ধ্বে। স্বাধীনত্রা ইতিহ্সা তেমনি একটি বিষয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য হলো সেটা নিয়েই চলে আসছে অসুস্থ বিতর্ক।

এবার যখন বিএনপি ঘোষণা করল, তারা বঙ্গবন্ধুর ঐিিতহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিবসটি পালন করবে, তখন জনমনে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, এ উদ্যোগের ফলে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব হয়তো কিছুটা কমে আসবে। বিএনপি যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন এবং ১১ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালনের ঘোষণা দিল, তখন দেশবাসী আশান্বিত হয়েছিল এর মধ্য দিয়ে দেশে একটি সুস্থ রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি হবে। জনমনে এ আশাবাদ সৃষ্টি হওয়ার কারণ ছিল, বিএনপির ওই ঘোষণাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রায় সঙ্গে সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু জনমনে সৃষ্ট সে  আশাবাদের বদ্বুদ মিলিয়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগেনি। ৬ মার্চ যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক বললেন, বিএনপির ৭ মার্চ পালন এবং সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন একধরনের ভন্ডামি, তখনই বোঝা গেল যে, আমাদের দেশের রাজনীতিতে সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের আশা করা বাতুলতা মাত্র। তার পরদিন ৭ মার্চ পালনের মে  বিএনপি নেতৃবৃন্দ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়েই প্রশ্ন তুললেন। তাদের বক্তব্য ওবায়দুল কাদেরের আগাম মন্তব্যকে যথার্থ বলে প্রমাণ করার জন্য সহায়ক বটে। ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে পলন করলে ১৯৭১-এর প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখেই তা করত হবে। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওইদিন সেই ভাষণটি দিয়েছিলেন, তাও উপলব্ধিতে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণ যে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সঙ্গে শেষ বোঝাপড়্রা ঘোষণা ছিল সেটাও মাথায়ে রাখতে হবে। তাঁর ওই ভাষণ সেদিন স্বাধীনতাকামী প্রতিটি বাঙালির জন্য দিকনির্দেশনা ছিল একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। স্বয়ং জিয়াউর রহমান, যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, তিনিও তা স্বীকার করেছেন। তিনি তার ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি পর্বের বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আমাদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা করা হলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব কর্নেল (তখন মেজর) শওকতও আমার কাছে জানতে চান। ক্যাপ্টেন শমশের মবিন এবং খালেকুজ্জামান আমাকে জানান যে, স্বাধীনতার জন্য আমি যদি অস্ত্র তুলে নিই, তাহলে তারাও দেশের মুক্তির জন্য প্রাণ দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না। ক্যাপ্টেন অলি আমাদের মাঝে খবর আদান-প্রদান করতেন।....সম্ভবত ৪ মার্চ আমি ক্যাপ্টেন অলিকে আহমদকে ডেকে নিই। আমাদের সেটা ছিল প্রথম বৈঠক। আমি তাকে সোজাসুজি বললাম, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে। ... ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রিণ সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম।’ লক্ষণীয় হলো জিচয়াউর ররহমান বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণটি গতানুগতিক  রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না। ওটা ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা। অর্থাৎ জিয়াউর রহমান তার লেখায় এটা স্বীকার করেছেন যে, ২৭ মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতাযুদ্ধের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার অনুপ্রেরণা বা নির্দেশনা তিনি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকেই। উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমানের এ নিবন্ধটি ১৯৭৩ কিংবা ৭৪ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রার স্বাধীনতা দিবস সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, জিয়াউর রহমানের এ নিবন্ধটি যখন প্রকাশিত হয়েছিল তখন তিনি সেনাবাহিনীতেই কর্মরত ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। একজন কর্মরত সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তার লেখা নিবন্ধের জন্য সেনাবাহিনী কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরূপ আপত্তি তোলা হয়নি। এ থেকে নিবন্ধে বর্ণিত ঘটনাবলীর যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন বিএনপির কাছে জিজ্ঞাসা হলো, তাদের নেতা যেখানে ৭ মার্চের মহিমা ও গুরুত্ব এভাবে তুলে ধরেছেন, সেখানে সে সত্য স্বীকারে তাদের বাঁধা কোথায়?

মূলত এসব রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণেই আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনেকটাই ম্লান হয়েছে। সরকারপক্ষ যেমন একাই তা পালন করতে চেয়েছে, কাউকে অংশীদার করতে আগ্রহী ছিল না, তেমনি বিএনপি তা পালনের সিদ্ধান্ত নিলেও ঐতিহাসিক সত্যকে অকপটে স্বীকার না করতে পারায় তাদের উদ্যোগ-আয়োজন প্রশ্নবোধক হয়ে পড়েছে। আরেকটি বিষয় হলো, করোনা পরিস্থিতির অজুহাতে বিএনপি তাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সব কর্মসূচি স্থগিত করছে। কিন্তু হেফাজতে ইসলামের হরতালে ‘হত্যাকান্ডের’ প্রতিবাদে গত ২৯ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্ত্য়া সমাবশ করেছে। সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানসমূহ স্থগিত করে হেফাজতের জন্য সমাবেশ করা অনেকের কাছেই সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। এখন যদি হেফাজতের তান্ডবে বিএনপির মদতদানের অভিযোগ তোলা হয়, তাহলে কি খুব অযৌক্তিক হবে? বিশেষত হেফাজতের হরতালের দিন দলটির একজন কেন্দ্রীয় নেত্রীর দলের একজন কর্মীকে বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দানের ঘটনা সে সন্দেহকে আরো ঘণীভূত করে বৈ কি।

বস্তুত, আমাদর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যেরকম আনন্দ- উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উদযাপিত হওয়ার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এ ব্যর্থতা এককভাবে কোনো দলের নয়। এ ব্যর্থতা আমাদের সবার। একাত্তরে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সুবর্ণজয়ন্তীতে তা হতে পারিনি। এ অপারগতা, এ ব্যর্থতা আগামী প্রজন্ম ক্ষমা করবে কী না কে জানে!

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত