মাদারীপুরে জ্বালানি সংকট: বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
এসআর শফিক স্বপন,মাদারীপুর
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫৮ | আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫১
মাদারীপুরে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারন করায় চলতি বোরো মৌসুমে দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। ফলে সেচ পাম্প চালাতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক জমি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা ইউনিয়নের বাহেরচর কাতলা গ্রামের এলাকার কৃষক আনোয়ার বাদশা। তিনি এবছর আড়াই একর জমিতে ইরি ধান রোপণ করেছেন। রোপনের শুরুতে ভালোমতোই পানি সরবরাহ পেলেও এখন আর পানি না পেয়ে তার ধান ক্ষেতে ফাটল ধরেছে। এই সময় ধানের ফলন ধরে কিন্তু ঠিকমত পানি না পাওয়ায় ফলন না আসা দুচিন্তায় ভেঙ্গে পরেছে । শুধু আনোয়ার বাশাই নয় এই গ্রামের ছলেমান বেপারী, রহিম কিরসহ অন্তত ৫০ হাজার কৃষকের একই অবস্থা। তেলের সংকটে নষ্ট হতে চলছে তাদের আবাদকৃত ফসল।
ডাসার উপজেলার কৃষক হেমায়েত জানান, গত এক সপ্তাহ ঘুরে পেয়েছি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার তেল। তাও কয়েকঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে। আর যতটুকু তেল দেয় এতে পুরো জমিতে পানি দিয়ে ভেজানো বড় কষ্টসাধ্য। তাই সরকারের কাছে আবেদন অন্তত আবাদকৃত ফসল যাতে করতে পারি সেজন্য তেলের সুব্যবস্থা করা হয়। শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের কৃষক রহিম মাদবর জানান,কোথাও তেল পাই না, আধা লিটার এক লিটার করে এনে সেচ দিতে হচ্ছে। এভাবে চললে আমরা পথে বসবো।”এখন পানি না দিতে পারলে আমার সব শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে ইউসুফ পাম্পের মালিক ইউসুফ আলী মাতুব্বর জানান, ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছি না। পখিরা খান ফিলিং ষ্টেশন মালিক সাহে জামায়ত খান রোটন জানান,চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে।মাদারীপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: মাসুম বলেন জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা জেলা প্রশাসন থেকে নিয়মিতভাবে অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।
মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড.রহিমা খাতুন বলেন, আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছি, যে সব কৃষক ডিজেলের কারনে সেচ দিতে পারছে না , তাদেরকে প্রত্যয়ন দিয়ে পাম্প মালিকদেরকে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়েছি।ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত