বঙ্গবন্ধুর বৈপ্লবিক চেতনা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা

  অধ্যাপক ড. মোঃ হোসেন মনসুর

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২১, ১২:৫৯ |  আপডেট  : ৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:৩১

আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে বাম পার্শ্বে উপবিষ্ট রাষ্ট্রদূত খান এম সামসুর রহমান সাহেবকে লক্ষ্য করে বঙ্গবন্ধু বললেন, সামসু তোমার মনে আছে, আগরতলায় এ ভাবে ফরাসে বসে সারা রাত আমরা গান বাজনা করতাম। বঙ্গবন্ধু ফরাসে বসেছিলেন না, তিনি সামনে সোফায় বসেছিলেন। আর আমরা তাঁর সামনে সোফায় বসেছিলাম। সেদিন ছিল ১৯৭৩ সালের ২৭শে মার্চের সন্ধ্যা। আমরা বঙ্গবন্ধুর সান্নিগ্ধ পেয়েছিলাম মস্কো বাংলাদেশ দূতাবাসে। বঙ্গবন্ধু গলার চিকিৎসার জন্য মস্কোতে গিয়েছিলেন। বাঙ্গালি বলতে আমরাই ছাত্র সমাজ। মস্কোতে তৃতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে তাঁর জেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আসতে পারলেন না, কারণ তাঁর গলায় অস্ত্রপচারের পর জোরে কথা বলা বা বক্তৃতা দেয়া নিষেধ ছিল।  তাই তিনি আমাদের নিয়ে দূতাবাসে বসেছিলেন। প্রথমেই আমাদের বলে দেয়া হল, বঙ্গবন্ধুর কথা বলা নিষেধ। নিষেধ সত্ত্বেও তিনি কথা বলেছিলেন এবং আমরাও তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বঙ্গবন্ধু আমাদের ভবিষ্যৎ কি? তিনি সহাস্যে পিতৃসূলভ আশ্বস্থ করেছিলেন, আমি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো, তোরাই তো আমার ক্যাডার। তখন বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ছিলেন জনাব খান এম সামসুর রহমান। ৩৫ জন আসামির মধ্যে তিন জন সিএসপি অফিসার আগরতলা মামলার আসামী ছিলেন। খান এম সামসুর রহমান তাঁদের মধ্যে অন্যতম (১৯ নং আসামী)। অন্য দুজন হলেন, জনাব আহম্মদ ফজলুর রহমান (৬ নং আসামী) ও জনাব রুহুল কুদ্দুস (১০ নং আসামী)। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি একটি প্রেসনোট প্রকাশ করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামী করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা ও পরিচালনার অভিযোগ আনয়ন করা হয়। তৎকালিন পাকিস্তান সরকার এই ষড়যন্ত্রকে আগরতলা ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে। তখন আমরা কলেজে পড়তাম। রাজনীতির জটিল বিষয়গুলো তত বোধগোম্য ছিল না। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আইয়ুব সরকার যে পদক্ষেপই নিতেন বাঙ্গালিরা ঘৃনা ভরে তা’ প্রত্যাখ্যান করতো। তখন আমরা ঠিকই মনে করতাম, আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে বিনা দোষে বঙ্গবন্ধুকে জেলে আটকিয়ে রেখেছে। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা সোচ্চার হয়েছিল। তখন আমাদের স্লোগান ছিল, জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো। আগরতলার দিনগুলোর কথা জনাব সামসুর রহমানকে স্মরণ করিয়ে দেয়ায় আমি ফ্যাল ফ্যাল করে বঙ্গবন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। বাঙ্গালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে নিজের জীবনের প্রতি ভ্রক্ষেপ না করে কি কঠিন পথ বঙ্গবন্ধু বেছে নিয়েছিলেন! পাকিস্তানের সংবিধান পরিপন্থি, রাষ্ট্রদ্রোহীতার পথ। অবিভক্ত পাকিস্তান রক্ষার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়া আইয়ুব খানের আর কিছুই করার ছিল না। আইয়ুব খান পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানরে সম্পর্ক নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন। আগরতলা মামলা দায়েরের মাত্র সাত দিন পরে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালের ২৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় তথ্য সচিব আলতাফ গওহরের সাথে কথা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং স্বীকার করেন যে, বাঙ্গলিদের প্রতি ন্যায় বিচার করা হয়নি। আগরতলা মামলা আইয়ুব খানকে খুবই চিন্তিত করে তুলেছিল এবং তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের সাথে থাকবে না।   

  

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তিনি বলতেন, একদিন শেখ মুজিব ইতিহাস সৃষ্টি করবে। আর অসীম সাহসী বঙ্গবন্ধুর সে ইতিহাস সৃষ্টির পথটি ছিল শঙ্কাবহুল ও রক্তাক্ত। তাঁর জীবনের লক্ষ্যই ছিল, বাঙ্গালি জাতির মুক্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আর সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি নেতাজী সুভাষ বসুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। ষাটের দশকে, আইয়ুব খান পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করায় সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে এক নৈরাশ্যজনক স্থবিরতা। এ সুযোগে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালির মুক্তির লক্ষ্যে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে গোপনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে বাঙ্গালি সেনা সদস্যদের নিয়ে ‘বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স’ নামক এক বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। সে বাহিনীর নেতৃত্ব দেন নৌবাহিনীর লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন (আগরতলা মামলার ২নং আসামী)। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বাঙ্গালিদের সংখ্যা কম হওয়ায় শুধু মাত্র বেঙ্গল লিবারেশন ফোর্স দিয়ে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা সম্ভব ছিল না। এ বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তিনি আন্তর্জাতিক সস্প্রদায়ের সহানুভূতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বহির্বিশ্বেও সহানুভূতি অর্জনের লক্ষ্যে তিনি প্রথমে ভারত ও পরে যুক্তরাজ্য সফরের পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি কয়েকজন বামপন্থি নেতার সাথে আলোচনা করেন। তারপর  ১৯৬৩ সালে তিনি চাদর মুড়ে টঙ্গী স্টেশন থেকে সিলেটগামী ট্রেনে চড়ে কুলাউড়া স্টেশনে নামেন এবং পায়ে হেটে আগরতলা পৌছান। এ ঘটনার পরিকল্পনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন রুহুল কুদ্দুস সিএসপি, আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি এবং সিলেটের চা বাগানের মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। মস্কো দূতাবাসে বঙ্গবুন্ধুর কথায় এটা প্রমাণ হয় যে, জনাব খান এম সামসুর রহমান আগরতলায় বঙ্গবন্ধুর সফর সঙ্গী ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আগরতলা সফর সফল হয়নি। জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে পারেননি। ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রী শ্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহর লাল নেহরুর সাথে সাক্ষাত করেন। চীনের সাথে লড়াইয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী এত বড় ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালাতে অনুমতি দেননি। বঙ্গবন্ধু ১৫ দিন ত্রিপুরায় অবস্থানের পর আবার স্বদেশে প্রত্যবর্তন করেন।

বাঙ্গালি সৈন্যরা অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে ১৯৬২ সালে  লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) গঠন করেন। বিএলএ-এর সাথে শেখ মুজিবুর রহমান যোগাযোগ রক্ষা ও আর্থিক সহায়তা করতেন। কয়েকজন সিএসপি অফিসার বিএলএ-কে পরামর্শ দিতে থাকেন। আওয়ামী লীগ প্রদত্ত ৬ দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএলএ সুসংগঠিত হতে থাকে। এভাবেই বঙ্গবন্ধু একদিকে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, অন্যদিকে সশস্ত্র বিপ্লবরে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে জয় লাভের পর আইনগত বৈধতা নিয়ে ১৯৭১ সনে ৭ মার্চ ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। আর সে লক্ষ্য অর্জনে, তিনি বাঙ্গালি জাতিকে নির্দেশ দেন, ‘তোমাদের যা’ কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র“র মোকাবিলা কর। স্বাধীনতাকামী সামরিক ও বেসামরিক মুক্তি বাহিনী বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা। বৃটিশ ভারতে জন্ম গ্রহণ করলেও তাঁর বায়োবীয় দেহের প্রতিটি রক্তের কণিকা ছিল স্বাধীন ও স্বার্বভৌম। ভৌগলিক বাংলাদেশ তাঁর দেহের বহিরাংশ। আর তাঁর দেহের সে বহিরাংশ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। বাঙ্গালি জাতি জানেই না যে তিনি জন্মের পর থেকেই শৃঙ্খল মুক্ত হতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বঙ্গবন্ধুর দেহ বা গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় জনপদের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরাতন। পৌরাণিক কথায় আছে, বালী রাজার স্ত্রী সুদেষনার গর্ভে পাঁচটি সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। যেহেতু তারা অবৈধ সন্তান ছিল সেহেতু আইনত তারা পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়। রাজা বালী তাঁর পাঁচটি পুত্রের নামে ইঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, পূন্ড্র ও সূ² নামে ভাঙ্গা এলাকায় বা গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় পাঁচটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। রামায়ন বা মহাভারতে উল্লেখিত পূন্ড্রনগর, পূন্ড্রবর্ধন, পূন্ড্রভার্তাকা বা এখনকার মহাস্থানগড় সে রাজ্যরই একটি রাজ্য। অনেকে বলেন, ইন্দোচীন থেকে ‘বাঙ’ জাতি এই গঙ্গা অববাহিকা এলাকায় বসবাস শুরু করে। প্রচুর নদ-নদী সম্বলিত এ এলাকাকে ভাঙ্গা এলাকা বলা হত। আর এর অধিবাসীদের বলা হত ‘বঙ্গাল’। হরিকেল ও সমতটসহ প্রচুর জনপদ ছিল এ ভাঙ্গা এলাকায়। পাল, গুপ্ত, সেন, মুসলিম ও ইংরেজসহ বহু অবাঙ্গালি রাজা বাদশা শাসন করতো এ ভাঙ্গা এলাকায়। তাই হাজার হাজার বছর ধরে আমাদের এ ভূখন্ড অবাঙ্গালিদের দ্বারা শাসিত বা পরিচালিত হতে থাকে। এ সকল অবাঙ্গালি শাসকদের কারও মাত্রভাষা ছিল ফারসী, আরবি বা ইংরেজী। মুসলিম শাসকেরা ত্রয়োদশ শতাব্দিতে সকল ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোকে একত্রিভূক্ত করে এ দেশের নাম দেন বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট নাম করণ করা হয় পূর্ব-পাকিস্তান।

ষাটের দশকের উত্তাল দিনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর সঠিক নেতৃত্বই বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতার আন্দোলনকে ত্বরাম্বিত করেছে। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগ্রত হবার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে উপহার দিয়েছেন স্বাধীনতা। সুদীর্ঘকাল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলকে সুসংগঠিত করে তাঁর মূল লক্ষ্য ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা’র দিকে এগিয়ে যান। ১৯৬৬ সালের ২০ মার্চ কাউন্সিল অধিবেশনে জনাব তাজউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব হস্তান্তর করে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হোটেল ইডেনের ওই কাউন্সিল অবেশনেই তিনি ১৮ মার্চ ‘আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা’ পাস করেন এবং তা’ পুস্তিকা আকারে বিতরণ করেন। ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী উৎযাপনের সভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম হবে পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র “বাংলাদেশ”। তাঁর এ স্বপ্নের বাংলাদেশকে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীন ও স্বার্বভৌম বলে ঘোষণা দেন এবং তাঁর নির্দেশে ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শত্র“মুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিভাবে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তাই বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্খপতি, ইতিহাসের মহানায়ক। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলীয় চেতনার ঊর্ধে উঠে বিভিন্নমুথি রাজনৈতিক দলগুলোকে একই ধারায় প্রবাহিত করার লক্ষ্যে বাকশাল গঠন করেন। আর এ সুযোগে স্বাধীনতা বিরোধী দেশী ও বিদেশী চক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। স্বাধীনতা বিরোধী কুচক্রীমহল কখনও বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নেয়নি। তার বড় প্রমাণ হল, তারা ক্ষমতায় থাকা কালিন বা ক্ষমতার বাইরে থেকেও কোনদিন রাষ্ট্রিয়ভাবে বা দলীয়ভাবে জাতির জনকের জন্ম বা মৃত্যু দিবস পালন করেনি। তাদের প্ররোচনাতেই বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। রাত্রি শেষে ফজরের নামাজের জন্য যখন মোয়াজ্জেম আজান দিচ্ছিল, নামাজের জন্য এগিয়ে আস, মুক্তির জন্য এগিয়ে আস, তখন ধানমন্ডির ৩২ নং রাস্তায় বঙ্গবন্ধুর বাস ভবনে সংগঠিত হচ্ছিল নৃশংস হত্যাকান্ড, রচিত হচ্ছিল বাঙ্গালি জাতির সচচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ রক্তের ঋণ বাঙ্গালি জাতি শোধরাবে  কীভাবে? যতদিন রবে বাংলাদেশ ততদিন আজকের জনগোষ্ঠি এবং আগামি দিনের নূতন প্রজন্ম নিজের সামর্থ অনুযায়ী লেখনি, বক্তৃতা, বিবৃতি বা অন্তরের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি বঙ্গবন্ধুর পবিত্র পদযুগোলে সমর্পনের মাধ্যমে তাঁর রক্তের ঋণ শোধরানো যেতে পারে। আর এমন কর্ম সম্পাদন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত