প্রভাবমুক্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ চায় পুলিশ

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৫, ১০:৪১ | আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, ১১:৩৯

সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা ‘কলঙ্কমুক্তির জন্য’ পুলিশ বাহিনীতে আমূল সংস্কার ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মের পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন ।
স্বনিয়ন্ত্রিত ও স্বাধীন পুলিশ কমিশনের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বাধীন ও স্বশাসিত কমিশন গঠন করা সম্ভব না হলে পুলিশ তার পুরোনো নেতিবাচক চরিত্রে ফিরে যাবে– এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তারা।
বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বড় ঘটনাগুলোয় ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন যানবাহন নেই। অপারেশনাল কাজে জরুরি ভিত্তিতে যানবাহন প্রয়োজন। এতে পুলিশের পরিবহন সংকটসহ লজিস্টিক সুবিধার ঘাটতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো ‘রাজনৈতিক পক্ষপাত’ এর সঙ্গে জড়িত না হয়ে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে ডিআইজি আহসান হাবিব বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বিপর্যস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ। জন আস্থাহারা ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে মনোবল হারিয়েছিল পুলিশ। ৫ ও ৬ আগস্টের পর এই বাহিনীর কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্যের দ্বারা বাহিনীকে ধ্বংসের সর্বশেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। পরাজিত সেই শক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তা আমরা নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, এই অপচেষ্টার পর অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল রাজারবাগ পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগণের নিরাপত্তা দিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা। জনসম্মুখে নিজের পরিচয় দিতেও আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস ছিল ৫-৬ আগস্টের পরবর্তী সময়টায়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল কুমিল্লা পুলিশ লাইনস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা, লোহাগড়া থানা, পাহাড়তলি থানা। বিভিন্ন থানার যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, আলামত, রেজিস্ট্রার্ডসহ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ চিত্র শুধু চট্টগ্রামে নয়, সমস্ত বাংলাদেশের। লুট করা হয় অস্ত্র গোলাবারুদ। যার সব এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করছি। এ বিষয়ে আমরা হয়ত বড় সংবাদ খুব দ্রুতই উপস্থাপন করতে পারব।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আহসান হাবিব বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও সমস্ত ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল জনপ্রত্যাশা পূরণ, মনোবল ফিরিয়ে আনা, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা, আমরা সেটা পেরেছি। আমরা চাই জনপ্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বার্থে পুলিশ যেন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
বৈঠকে ডিআইজি আহসান হাবিব বলেন, বিগত দিনগুলোতে পুলিশকে ম্যানেজ করার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। আমাদের ম্যানেজ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখানেই পুলিশ কলঙ্কমুক্ত হবে। এই ব্যালান্স বা ম্যানেজ সংস্কৃতির কারণে পুলিশ কলঙ্কমুক্ত হতে পারে না। সেজন্য পুলিশের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট দিয়ে বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে দেশ ও জাতির কল্যাণ ও উপকার হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় অল্প সংখ্যক পরিবহন এবং অপারেশনাল যানবাহন রয়েছে, যার কারণে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনার জন্য অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের প্রায়শই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যে পরিমাণ পেট্রোল টিম থাকা দরকার তা নেই। সেজন্য যানবাহন বাড়ানোর কথা বলা হয়। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য টিএ-ডিএ ভাতা বৃদ্ধিরও অনুরোধ জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরে একটি সভা হয়। সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পুলিশ কর্মকর্তাদের আইন অনুসারে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে, যা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। পুলিশ প্রধান সব এসপি এবং মহানগরের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। চলমান কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করারও পরামর্শ দেন।
সা/ই
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত