পবিত্র শবে বরাত

  গ্রামনগর বার্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২২, ১১:৩৩ |  আপডেট  : ১৯ মে ২০২৪, ২৩:০৯

আজ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত। ফার্সি শব্দ শবে বরাত ও আরবী শব্দ লাইলাতুল বরাতের অর্থ ভাগ্য রজনী। ইসলাম ধর্ম মতে এ রাত অত্যন্ত পূণ্যময়। সাধারণত এ রাতকে সৌভাগ্যরজনী বলা হয়ে থাকে। মুসলমানদের বিশ্বাস, এ মহিমান্বিত রাতে আল্লাহতায়ালা মানুষের পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকেন। তবে, ইসিলামী চিন্তাবিদদের মতে এ রাতে মানুষের হায়াত, রিজিক ও আমল নির্ধারিত হয়। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। 

পবিত্র লাইলাতুল বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরমাদ এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বালী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তাদের বাণীতে বাংলাদেশসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেছেন, মহিমান্বিত এ রজনী মানবজাতিকে আল্লাহতায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের সুযোগ করে দেয়। 

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। বেতার ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। ধর্মীয় ও সামসাজিক সংগঠনগুলো দিনটি উদযাপনের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পবিত্র এ দিবস উপলক্ষে দেশের মসজিদসমূহে বিশেষ নামাজ, ওয়াজ নসিহত ও জিকির আসকারের আয়োজন করা হয়েছে। লাইলাতুল বরাতের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার নিমিত্তে ঢাকাসহ সারাদেশে আতশবাজি নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। 

পবিত্র লাইলাতুল বরাতের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হলো আলাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সৌভাগ্যকে গড়ে তোলা। লাইলাতুল বরাত এ ক্ষেত্রে প্রতীক হিসেবে আমাদের সামনে প্রতি বছর উপস্থিত হয়। এ পবিত্র রাতে আমরা যেভাবে আল্লাহ্র ইবাদতে মশগুল হই, গোণাহ মাফের জন্য তওবা করি এবং একে অপরের কল্যাণ কামনা করি, মুসলমান হিসেবে আমাদের কর্তব্য হবে প্রতিদিন একই কায়দায় তা পালন করা।

সব ধর্মের মর্মবাণি শান্তি ও মানবকল্যাণ। যুগে যুগে ধর্ম প্রচারকগণ মনবকল্যাণ ও শান্তির বাণী প্রচার করেছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন ও কর্মের দিকে তাকালে সে সত্য প্রতিভাত হয়ে উঠে। তিনি আজীবন শান্তির জন্য কাজ করে গেছেন, মানবকল্যাণে আত্মনিবেদিত ছিলেন। ইসলামধর্মে সেসবের প্রতিফলন ঘটেছে। আর সেজন্যই ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়। হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানিকে ইসলাম কখনোই অনুমোদন করে না। ধর্মের নামে  জবরদস্তিরও কোনো স্থান ইসলামে নেই। 

পবিত্র লাইলাতুল বরাতের মর্মবাণীকে বুকে ধারণ করে আমরা যেন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে পরিগণিত হতে পারি, সেটাই হোক আজকের দিনে সবার প্রত্যয়। সবাইকে মোবারকবাদ। 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত