খরার পরেও বোরো আবাদে ভালো ফলনের সম্ভবনা
পঞ্চগড়ে বোরো আবাদে সচল গভীর অগভীর নলকূপ

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৫, ১২:০৯ | আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, ১১:২৩

পরিবেশের বিরুপ প্রভাব পড়েছে পঞ্চগড়ে। বৃষ্টিপাতের অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠ-ঘাট। তবে কৃষক সচেতনতায় বোরো আবাদে তার প্রভাব পড়বেনা এমনটা আশার কথা বলছেন কৃষি বিষয়ক সংশ্লিষ্টরা। এবারে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
পঞ্চগড় জেলায় খড়ার দীর্ঘসূত্রিতা বিরাজমান। শহর-বন্দর গ্রামগঞ্জের উচঁ-নীচু পুকুর ঘাট নয়নজলিতে পানি নাই বললেও চলে। এদিকে শীতের প্রস্থান ঘটলেও ফাগুণে তাপমাত্রার চেয়ে চৈত্রে এসে তা বাড়তে শুরু করেছে। তেতুঁলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৮ মার্চ) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আগের দিন মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর টি জানায় প্রায় ৬ মাস ধরে বৃষ্টির ছিটে ফোটা নেই।
এদিকে চৈত্রের বিদায়ের আগে ফাগুনে প্রথর্মাধে সর্বোচ্চ ২৮ অথবা তার কিছু কম এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ অথবা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কৃষি ও পরিবেশ বিদদের মতে, ফাগুণের পরিবেশ চৈত্রে এসে দেখা দিয়েছে। কারণ খড়ার মধ্যে মঙ্গল ও বুধবার দুপুরের পর ধূলিঝড় জেলাময় বিরুপ প্রভাব ফেলে। পশ্চিম দক্ষিণের থেমে থেমে প্রবলঝড় দেখা যায়। এতে মানুষের চলাফেরায় প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয়।এর কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজ অবস্থানে স্থির হয়। এসময় সব জায়গা গাছ-পালার পাতা ঝড়ে পড়লেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তেতুঁলিয়া আবাহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রোকনুজ্জামান জানান, বৃষ্টির সময় চলে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে এমন আবহাওয়া দেখা যায়। তবে চলতি মার্চ মাসের ২২ অথবা ২৩ তারিখে হাল্কা থেকে মাঝারি আকারে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর আগে বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা কম।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে বোরো অবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জানা যায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর জমির স্থলে আবাদ হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে। গতবার আবাদ হয় ৩৩ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমি। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল মতিন জানান, যদি দূর্যোগ না আসে। এমন আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির কোন সম্ভবনা নাই। শুষ্ক মৌসুমে হাওয়া বাতাস হতেই পারে।
অপরদিকে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, তাদের ৪৫৭টি ঘভীর ও অগভীর নলকূপ চালু রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ ৪৩৮ , এলএলপি পাম্প রয়েছে ১৩ এবং সোলার সংযোগকৃত পাত কূয়া রয়েছে ৬টি। বরেন্দ্র’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত বোরোতে পানি দিতে কোন সমস্যা হয়নি। সব গভীর ও অভীর ও সোলার যুক্ত পাতকূয়া চালু রয়েছে। ছোট- বড় সব ধরনের ডিজেল চালিত স্যালো মেশিস সচল রয়েছে। বিদ্যূৎ সরবরাহে কোন ঘাটতি এখনো নেই।আশা করা যায়, বোরো আবাদে কোন প্রভাব ফেলবেনা না। উৎপাদনে কোন ব্যাঘাত ঘটবেনা।
সান
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত