নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসা, ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২১, ৯:৩৩ দুপুর |  আপডেট  : ২৫ জুলাই ২০২১, ৮:৫৫ সকাল

দেশের কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনতে একটি নীতিমালাও প্রণয়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসছে কওমি মাদ্রাসাগুলো।

গত ২১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আব্দুস সেলিমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী গণমাধ্যমকে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গঠিত এ কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে— কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকরকরণ ও সরকারের নিবন্ধনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। 

পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা আলাদাভাবে পরিচালিত ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছয় বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও পদাধিকার বলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন— বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মুফতি রুহুল আমীন, আঞ্জুমানে ইত্তিহাদ বোর্ডের মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি, সিলেটের আযাদ দ্বীনি বোর্ডের মাওলানা জিয়াউদ্দিন, তানযীমুল মাদারিসের মুফতি আরশাদ রহমানী ও জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

এ কমিটি কবে বৈঠকে বসছে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী বলেন, মাত্র তো কমিটি গঠন হলো। সবাইকে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হচ্ছে। এখনও বৈঠকের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সামনে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হবে।

এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নের বিধান রেখে ‘শিক্ষা আইন ২০২১’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। 

ওই খসড়ায় বলা হয়েছে— সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর কেন্দ্র করে হেফাজতের বিক্ষোভে সহিংস ঘটনায় ১৮ জন নিহত হন। এ কর্মসূচিকে ঘিরে সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এপ্রিল থেকে এ নাশকতাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযান ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে মৌলিক সংকটে পড়ে কওমি মাদ্রাসাগুলো। 

পরে ২৫ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়ার স্থায়ী কমিটির সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রচলিত সব ধরনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত