জীবন বাঁচাতে রাফা ছেড়েছেন ৮ লাখ ফিলিস্তিনি : জাতিসংঘ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১৩:৫৪ |  আপডেট  : ১৮ জুন ২০২৪, ১২:০৪

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার রাফা শহর থেকে প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত সপ্তাহে দক্ষিণ গাজার এই শহরে ইসরায়েল হামলা শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে তারা অন্যত্র সরে যান। শনিবার (১৮ মে) জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় ফিলিস্তিনিদের বারবার বাস্তুচ্যুতির নিন্দাও করেছেন তিনি। খবর আলজাজিরার।

লাজারিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তার সন্ধানে বহুবার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে তারা কখনো নিরাপত্তা খুঁজে পায়নি। এমনকি ইউএনআরডব্লিউএিএর আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যন্ত সেটা মেলেনি।

তিনি বলেন, যখন মানুষ এক জায়গা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়, তখন তারা নিরাপদ পথ বা সুরক্ষা ছাড়া অরক্ষিত হয়ে পড়ে। প্রতিবার তারা তাদের কিছু জিনিসপত্র ফেলে যেতে বাধ্য হয়। যেমন মাদুর, তাঁবু, রান্নার জিনিসপত্র। এসব তারা নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না কিংবা নিয়ে যাওয়ার মতো টাকা দিতে পারে না।

রাফা গাজার সর্বদক্ষিণের শহর। এই শহরে ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে ১৫ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আশ্রয়গ্রহণ করেছিলেন। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের রাফা ছাড়ার নির্দেশ দিলে জীবন বাঁচাতে এসব মানুষ এখন অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।

সাত মাস ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। তাদের ভাষ্য, রাফায় হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এসব হামাস যোদ্ধাকে নির্মূল করা ব্যতীত এই যুদ্ধে ইসরায়েলের জয়লাভ সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে রাফায় বিপুল সংখ্যক সেনা ও ট্যাংক জড়ো করেছে ইসরায়েল। মিসরের সঙ্গে গাজার প্রধান সীমান্ত পথটিও দখল করে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতদিন এই সীমান্তপথ দিয়ে গাজাবাসীর জন্য জরুরি জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করতো। তবে তা এখন বন্ধ রয়েছে।

তবে ইসরায়েল রাফায় স্থল অভিযান চালালে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সারা বিশ্ব। এমনকি এখন পর্যন্ত রাফা অভিযানে সায় দেয়নি ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের উদ্বেগ উপেক্ষা করে রাফা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থী সরকার।

 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত