জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

  গ্রামনগর বার্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৩৩ |  আপডেট  : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৮

 ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে আমাদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রমের সফল সমাপ্তি ঘটে। অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ার বাঙালির বুকে তখনও হাহাকার। এ হাহাকার স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য। তিনি তখনও পাকিস্তানী কারাগারে বন্দী। তাকে ছাড়া যে আমাদের স্বাধীনতার পূর্ণতা আসতে পারে না। কবে ফিরবেন তিনি এই আশায় জাতি তখন প্রহর গুনছে।

অবশেষে সব প্রতীক্ষা ও আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে খবর এলো বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরছেন। বিশ্ব জনমতর চাপে পাকিস্তান সরকার তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হচ্ছে। ৮ জানুয়ারি তিনি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে যাত্রা বিরতি শেষে ১০ জানুয়ারি ফিরলন দেশে। সেদিন তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বৃটিশ এয়ারওয়েজের বিমানের চাকা মাটি স্পর্শ করার সাথে সাথে সমগ্র বাংলাদেশ ফেটে পড়েছিল অভূতপূর্ব উল্লাসে। লাখো জনতা সেদিন উপস্থিত হয়েছিল তাদের প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে। মৃত্যুঞ্জয়ী বঙ্গবন্ধু সেদিন তার প্রিয় বাংলাদেশে ফিরে এসে হয়ে পড়েছিলেন আবেগাপ্লুত।

বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে এসেছিলেন যেখান থেকে তিনি স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেছিলেন, সেই রমনা রেসকোর্স ময়দানে। স্বাধীনতার আনন্দে উল্লসিত লাখো জনতার সামনে দিয়েছিলেন এক আবেগময় ভাষণ। এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, ‘কবিগুরু তুমি বলেছিলে, সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি’। কবিগুরু তুমি ভুল বলেছিলে। আজ আমার বাঙালি মানুষ হয়েছে। তারা মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছে।’ আজ স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পঞ্চাশ বছর পূর্তির দিনে একটি প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে- আমারা কি আদতেই মানুষ হয়েছি? যে আশা নিয়ে গর্বভরে বঙ্গবন্ধু সেদিন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে ওই কথা বলেছিলেন, আমরা কি তার মর্যাদা রাখতে পেরেছি, না পারছি? যে বাংলাদেশের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন, সে বাংলাদেশ কি আমরা নির্মাণ করতে পেরেছি ? বাস্তবতাকে যদি অস্বীকার না করি, তাহলে এ কথা বলতে দ্বিধা থাকার নয় যে, বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারছি না। আজ আমাদের মধ্যে দেশপ্রেমের যে ঘাটতি তা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রধান অন্তরায়। সর্বত্র দুর্নীতি, অনিয়ম, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং কতিপয় মানুষের চরিত্রহীনতা দুর্বিষহ করে তুলেছে মানুষের জীবন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়-আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করেও এসব দুর্বৃত্ত-দুস্কুকারীকে দমন করতে পারছে না। আসলে যে অর্থে সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘আমার বাঙালি মানুষ হয়েছে’ আমরা তাঁর সে কথার মর্যাদা দিতে পারিনি। আমাদের এ আপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। 

আজ জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই শুভ দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত আমরা তাঁর কাক্সিক্ষত মানুষ হয়ে উঠবো। দেশকে ভালবাসব, দেশবিরোধী অপশক্তিকে দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করবো। তাহলেই তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে। 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত