জমে ওঠেছে নতুন টাকার হাট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৮ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০১ |  আপডেট  : ২২ মে ২০২৪, ০৭:৪৪

মুদ্রার লেনদেনকে ইসলামের পরিভাষায় বাইয়ুস সারফ বলা হয়। এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক. দুটি ভিন্ন ভিন্ন দেশের মুদ্রা। দুই. একই দেশের মুদ্রা। 

ঈদ উৎসবসহ বিভিন্ন উপলক্ষে নতুন টাকা কেনাবেচার প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। অনেকে ছোটদের সালামি দেওয়ার জন্য নতুন নোট কিনে থাকেন। নতুন নোট কেনার জন্য অনেক সময় অতিরিক্তি টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ, ১ হাজার টাকার নতুন নোট বিক্রি করা হয় ১ হাজার ২০ টাকায়। এভাবে টাকার বিনিময়ে টাকা বেশ-কম করে বেচাকেনাকে নাজায়েজ বলে ইসলামি আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদেরা।

ইসলামে এক প্রকারের দুটি জিনিস কমবেশি ক্রয়-বিক্রয় করা নাজায়েজ। কারণ, এ রকম লেনদেনে অতিরিক্ত অংশ সুদ হয়ে যায়। তাই আলেমরা, একে সুদি কারবারের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন। টাকা বা কাগজের নোট পণ্য নয়, বরং এটি মূল্য, তাই এ নিয়ে ব্যবসা করার অনুমোদন দেয় না ইসলাম। তবে একেবারে অপারগতার ক্ষেত্রে নতুন টাকা সংগ্রহ করার পরিশ্রম বাবদ কিছু টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। শর্ত হলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিতে হবে যে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হচ্ছে নতুন টাকা সংগ্রহের পারিশ্রমিক হিসেবে, নতুন টাকার মূল্য হিসেবে নয়।

তবুও এখন রাস্তার পাশেই দেখা যায়, নতুন টাকার বিভিন্ন বান্ডিলের পসরা সাজিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। সারা বছরই এখানে নতুন টাকা পাওয়া যায়, তবে ঈদের আগে বেচা কেনা বেশি হয়। এবার এ দোকানগুলো থেকে দুই টাকা ও পাঁচ টাকার নোটের এক হাজার টাকার বান্ডিলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে  প্রায় ৪০০ টাকা, ১০ টাকার নোটের বান্ডিলে গুণতে হচ্ছে  প্রায় ২০০ টাকা, ২০ টাকার নোটে গুণতে হচ্ছে  প্রায় ১০০ টাকা।

নতুন টাকা কিনতে আসেন অনেকেই । কিন্তু এই অতিরিক্ত দাম নিয়ে তাদেরও রয়েছে অভিযোগ। তারা বলেন, ব্যাংকে অনেক ভিড় থাকে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাছাড়া এনআইডি কার্ডের ফটোকপিও জমা দেওয়া লাগে। ঝামেলা এড়াতে এখানে এসেছি। এসে দেখি বিক্রেতারা বেশি দাম চাচ্ছেন।

গতবার টাকা ভেদে প্রতি বান্ডিলের জন্য ৭০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিয়ে পাওয়া যেতো। এবছর ৪০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত চাচ্ছেন। দাম বেশি হলেও যারা নতুন টাকা নিতে এসেছেন তারা নিয়েই যাচ্ছেন। বিক্রেতারা জানান, এবারের ঈদে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি নতুন টাকা না বিলিয়ে অন্যান্য ব্যাংককে দিয়ে বিলাচ্ছে। এতে একটা সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। তাই ব্যাংক থেকে বিলানোর প্রতিদিনের নির্ধারিত টাকা দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

সা/ই

 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত