গাজায় ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৫, ১০:১৭ | আপডেট : ১ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০৮

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকায় 'ব্যাপক হামলা' শুরু করেছে। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স সংস্থার এক মুখপাত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭০ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকালে এই হামলার নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা হামাসের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এটি গাজায় সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। গাজায় যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আলোচনা কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহে তিনটি বাড়ি, গাজা শহরের একটি ভবন এবং খান ইউনিস ও রাফাহে কয়েকটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাসের পক্ষ থেকে আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানানো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ফলস্বরূপ এই হামলা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল এখন থেকে হামাসের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি নিয়ে কার্যক্রম চালাবে।
বিমান হামলার পরিকল্পনা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আইডিএফ উপস্থাপন করেছিল এবং রাজনৈতিক নেতারা তা অনুমোদন করেছিলেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
১ মার্চ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার পর আলোচকরা একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করে আসছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছিল যে প্রথম পর্যায়টি এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হোক, যাতে হামাসের হাতে আটক জিম্মি ও ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের আরও এক দফা বিনিময় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কিন্তু আলোচনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল ও হামাস, উইটকফের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার মূল বিষয়গুলোতে একমত হতে পারেনি।
প্রায় ১৫ মাসব্যপী চলা যুদ্ধে গাজায় বসবাসরত ২১ লাখ মানুষের বেশিরভাগই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রায় ৭০% ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় গাজায় আবারও হামলা শুরু করলো ইসরায়েল।
কা/আ
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত