কাউনিয়ায় তিস্তা নদীবেষ্টিত চরে নৌকা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছে মাঝিরা 

  সারওয়ার আলম,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৫, ১৭:২৫ |  আপডেট  : ৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৪

এখন চৈত্র মাস। বর্ষা মৌসুম শুরুর পূর্বেই নৌকার মাঝিরা নতুন ও পুরাতন নৌকা তৈরী ও সংস্কার কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আর কিছুদিন পরই অবিরাম বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদী পানিতে টৈই-টম্বুর হবে। কাউনিয়ায় তিস্তার তীরবর্তী ২২টি চরাঞ্চালের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতে বর্ষা মৌসুমে এক মাত্র ভরসা নৌকা। তাই বর্ষা শুরুর পূর্বে নুতন নৌকা তৈরি,পুরাতন নৌকা সংস্কারের ধুম পড়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে।  

সরেজমিনে তিস্তা নদী বেষ্ঠিত পাঞ্জরভাঙ্গা, চর ঢুষমারা, চর গনাই, তালুকশাহবাজ সহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নতুন নৌকা তৈরি ও পুরাতন নৌকার সংস্কার কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন চরাঞ্চলের মানুষ। বর্তমানে তিস্তা নদিতে পানি না থাকায় জীবন-জীবিকার চাহিদার কারণে অনেকই ভিন্ন পেশায় কাজ করেছেন, আর এখন আগামী বর্ষা মৌসুমে নিজ পেশায় ফিরে যেতে ঘর থেকে বেড়িয়ে মাঠে প্রান্তরে নৌকা সংস্কারে কাজ করছেন। শুকনো মৌসুমে রাস্তার অভাবে চরাঞ্চালের মানুষের উত্তপ্ত বালুর উপর দিয়ে হেটে চলা, আর বর্ষা মৌসুমে ডুবো চরে অথৈ পানি আর বন্যার সাথে যুদ্ধ করে এসব চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। নৌকায় করে চলাফেরা করাই তাদের যেন নিয়তি। সমতলের মানুষের যেমন নিজস্ব মটর সাইকেল, বাইসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন আছে তেমনি চরাঞ্চলের মানুষের থাকতে হয় একটি নৌকা। তাই যাদের পুরোনো নৌকা গুলো মেরামত করার উপযোগী নয় বাধ্য হয়ে ঋন করে নৌকা তৈরি করছে কৃষক জেলে মাঝিরা। ফসল আনা নেয়া, মাছ ধরা, হাট বাজার, শহর, বন্দর যেখানেই যাক না কেন তাদের নৌকা যোগেই যেতে হয়। তাই তাদের থাকতে নিজস্ব নৌকা। ঢুষমারা গ্রামের কোব্বাত আলী জানান, প্রকার ভেদে নিন্মে ডিঙ্গি নৌকা ৩০ হাজার থেকে বড় নৌকা তৈরিতে ৩ লাখ টাকা খরচ পড়ে। যার যেমন সামর্থ তারা সেভাবেই নৌকা তৈরি করে যাতায়াত করে। চরাঞ্চলের মানুষের অভিযোগ যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের খবর কেউ রাখেনা। চরাঞ্চলের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লেও তাদের খবর কেউ রাখে না। তারা যেন ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা। বন্যা দেখা দিলে চাহিদার তুলনায় নগন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হয়তো একদিনের জন্য দেখা মেলে সরকারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের। আর সারা বছরেই তাদের দেখা মেলে না চরাঞ্চলের মাটিতে। রোদ বৃষ্টি খরা বন্যা মাড়িয়ে নিয়তির সাথে যুদ্ধ করেই চলতে হয় তাদের বারো মাস। নৌকা তৈরীর কারিগর নিপেন চন্দ্র জানান, বর্ষা শুরুর আগে চরের মানুষ নৌকা ঠিক করে আবার কেউ নতুন নৌকা তৈরী করে, এসময় তাদের কাজ ভালই চলে, তবে নৌকার জন্য উপযোগি জিগা গাছের কাঠ পাওয়া যায় না এখন। সরকারী ভাবে এই গাছ রক্ষায় কাজ করা প্রয়োজন।
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত