কাউনিয়ায় আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক

  সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২২, ১৯:২৮ |  আপডেট  : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৪

প্রতি বছর আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে বৃষ্টির পানিতে আমন ধান রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন কৃষক। কিন্তু এবার অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে পানি সঙ্কটের ফলে অনেক কৃষক ধান রোপণ করতে পারেন নাই। কাউনিয়ায় দুইদফা বন্যা আর খড়ায় আমন বীজতলা ও আমন ক্ষেত নষ্ট হলেও বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে আমন ধান রোপেন কোমড় বেধে নেমেছে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কৃষকের সাথে কতা বলে জানাগেছে কাউনিয়ায় প্রচণ্ড তাপদাহ, তীব্র খরাসহ অনাবৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠঘাট ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছিল। বৃষ্টির পানির অভাবে ফসলের মাঠ খাঁ খাঁ করছিল। আমন রোপণের সময় বিলম্বিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকে সম্পূরক সেচ দিয়ে ধান রোপন করে। এরপরও অনেকের বীজতলা ও থান ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। তারপর আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি হলে আবার নতুন উদ্যোমে কৃষক আমন ধান রোপন শুরু করে। গদাই গ্রামের চাষি শাহজাহান মন্ডল জানান বিগত বছরগুলোতে এ সময় বৃষ্টির পানিতে খাল-বিল মাঠঘাট পানিতে ভরে থাকে। জমিতে বৃষ্টির পানি দিয়েই আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করে চাষিরা। ইতোমধ্যে যেসব চাষি সম্পূরক সেচ দিয়ে আমন রোপণ করেছেন তারাও আমন ক্ষেত রক্ষায় সেচ অব্যাহত রেখেছেন। 

লালমসজিদ এলাকার কৃষক আলহাজ্ব ইসমাইল হোসেন বাবু জানান, তেল, সার, বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। কাউনিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হারাগাছ পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে ১১হাজার ৪২১হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্জন হয়েছে ১০ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। এবার হাইব্রীড ধান রোপন করা হয়েছে ৮৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আষাঢ় মাসের ২০ তারিখ থেকে শ্রাবণ মাসের শেষ পর্যন্ত রোপা আমন চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। অনাবৃষ্টি ও অতিরিক্ত খরার কারণে কৃষকদের অসুবিধা হলেও চাষাবাদ কিংবা উৎপাদনের তেমন ক্ষতি হবে না। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ শাহানাজ পারভীন জানান, প্রথমের দিকে খরার কারনে আমন ধান রোপনে কিছুটা ক্ষতি হলেও পরবর্তিতে বৃষ্টি হওয়ায় সেই ক্ষতি পুশিয়ে নিয়েছে কৃষক। আশা করছি লক্ষ্যমাত্র অর্জন এবং উৎপাদনও ভাল হবে।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত