আলাদা মত থাকলেও একসঙ্গে আলাপ করা, কথা বলাই গণতন্ত্রের অংশ: জাইমা রহমান

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৪ |  আপডেট  : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৪

আলাদা মত থাকলেও একসঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা, কথা বলাই গণতন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।‘জাতি গঠনে নারী: নীতি, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভার শুরুতে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বলেন, দেশের মাটিতে প্রথম বক্তব্য। আমার ভিন্ন এক অনুভূতি কাজ করছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

দেশে নারীদের উন্নয়নে দাদা জিয়াউর রহমান ও দাদি বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার কাছে সব সমাধান আছে এমন নয়। তবে নিজের সামর্থ্যে থেকে কিছু করার ইচ্ছে থেকেই এসেছি।এ সময় আলাদা মতের হলেও একসঙ্গে আলাপ করা, কথা বলাই গণতন্ত্রের অংশ বলেও মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান দেশে প্রথমবারের মতো জনপরিসরে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি দেশের জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেন। সঙ্গে দেশে আসেন তার একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও। তিনি লন্ডনেই লেখাপড়া সম্পন্ন করেন এবং আইন পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন।

দেশে ফেরার আগেই বিএনপির একটি ভার্চুয়াল ঘরোয়া প্রোগ্রামে বক্তব্য দিয়েছিলেন জাইমা রহমান। দেশে ফেরার পরপর তার দাদি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তখন বিদেশি কূটনীতিকরা শোক জানাতে এলে বাবা তারেক রহমানের পাশে জাইমা রহমানও ছিলেন। এর দ্বারা বিএনপির রাজনীতিতে জাইমা রহমানের সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। আজ প্রথমবারের মতো জনপরিসরে কোনো অনুষ্ঠানে বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে তার অভিষেকের ইঙ্গিত পাওয়া গেল।   

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জাইমা রহমান বলেন, আজ আমরা এখানে যারা উপস্থিত সবাই একরকম নয়। আমাদের আদর্শ, অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তারপরও আমরা একসঙ্গে বসেছি, আলোচনা করছি। কারণ আমরা সবাই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ভাবছি। আর এই ভিন্নতা নিয়েই একসঙ্গে কথা বলছি, একের পর এক শুনছি। এটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য।

নিজের প্রথম বক্তব্য প্রসঙ্গে তারেককন্যা বলেন, ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশের এই পিলিসি লেভেলে আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ নই যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবু আমি বিশ্বাস করি নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীদের অংশগ্রহণ জরুরি জানিয়ে জাইমা রহমান বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে একপাশে রেখে বাংলাদেশ বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারবে না।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত