৩ বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ: সংকটে গার্মেন্টস খাত, নীতি সহায়তা চায় বিজিএমইএ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫০ | আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪১
দেশের তৈরি পোশাক শিল্প বড় ধরনের সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি।(বিজিএমইএ) এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও টিকে থাকলেও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এ অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট বৈঠকে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ তথ্য তুলে ধরেন। বৈঠকে অন্যান্য শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে পোশাক খাত দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা সমস্যার মুখোমুখি। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাণিজ্যিক শুল্কের চাপের কারণে রপ্তানি কমে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ৩.৭৩% কমেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে এই নিম্নমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট।
কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সুদের হার বেড়ে ১২% থেকে ১৫% হয়েছে। জ্বালানির দামও বড় চাপ তৈরি করেছে—২০১৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত গ্যাসের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়েছে এবং বিদ্যুতের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০২৪ সালে ৫৬% বাড়ানো হয়েছে এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ এবং রপ্তানি প্রণোদনা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যয় আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিএমইএ সরকারের কাছে কিছু নীতি সহায়তা চেয়েছে। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—রপ্তানি খাতে কর কমানো, নগদ সহায়তায় কর ছাড়, সোলার প্যানেল ও কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত আরও সংকটে পড়তে পারে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত