হামিদুর রহমান আযাদের ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিল
নিজস্ব প্রতিবেদক-
প্রকাশ: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:০০ | আপডেট : ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৪
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় অসঙ্গতি ও তথ্য গড়মিল থাকায় তাদের দুজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন৷
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দুপুর আড়াইটার পর থেকে এই আসনটির প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হয়। যাচাই-বাছাইয়ে ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হয়ে গেছে। বাকী ১ জনের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী উপস্থিত না থাকায় তার মনোনয়ন যাচাই পেন্ডিং রাখা হয়েছে।
৬ জনের মধ্যে মনোনয়ন বৈধ হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলম ও জামায়াতের প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামানের। মনোনয়ন বাতিল হয়েছে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকারের।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ তার হলফনামায় সম্পদের বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এই অসংগতির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে৷ এ ছাড়া, মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্য গড়মিল থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আপিল করতে পারবেন।
এদিকে কক্সবাজার-২ আসনে (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রথমে স্থগিত রাখা হলেও পরে এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।
তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার অভিযোগের একটি মামলায় অভিযুক্ত হামিদুর রহমান আযাদ যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে উপযুক্ত কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে আপিল করতে পারবেন।এই আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন যার মধ্যে গোলাম মাওলা নামে আরও এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন—আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ (বিএনপি), জিয়াউল হক (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), ওবাইদুল কাদের নদভী (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), এস এম বোকনুজ্জামান খান (গণঅধিকার পরিষদ), মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম (জাতীয় পার্টি)।প্রসঙ্গত, মনোনয়ন বাতিল হওয়া হামিদুর রহমান আযাদ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত