মুন্সীগঞ্জে শাহজালাল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ইজিবাইকসহ আটক-২ 

  লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ 

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৩ |  আপডেট  : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৭

কুলেস ও চাঞ্চল্যকর শাহজালাল হত্যা মামলার র দুই জন আসামীকে গ্রেফতার ও চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ ই জানুয়ারি) ইব্রাহিম ওরফে সাগর ও ফাহিম নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৮) গজারিয়া থানার নতুন বালকি এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। অপর আসামী ফাহিম (২৪) কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দাউদেরখাড়া এলাকার খোরশেদের ছেলে। 

শনিবার (১০ ই জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো: মেনহাজুল আলম। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও মামলার তথ্য সুত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর গজারিয়া থানা স্থানীয়দের মারফতে জানতে পারে যে, কালো টি-শার্ট পরিহিত উলঙ্গ ও হাত-পা বাধা অবস্থায় একজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির লাশ গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের কাঞ্চন নদীর খালের মধ্যে পরে আছে। পরে একই দিন বিকাল ৫ টার সময় নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম এসে লাশটি শাহ জালাল (৩৭) এর বলে সনাক্ত করেন। পরবর্তীতে নিহতের বড় ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করিলে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। 

আরও জানা যায়, গত ৫ ই ডিসেম্বর সকালে অটো রিক্সা নিয়ে বাড়ী হতে বের হয়। পরে বাড়ীতে না আসায় বাড়ীর শাহজালাল (৩৭) এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার পরিবার ৬ ই ডিসেম্বর বিকালে লাশ পানিতে ভেসে ওঠার খবর পায়।

পরে গজারিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম উক্ত মামলার তদন্তে নামে। গতকাল শুক্রবার (৯ ই জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুমানিক ছয়টার সময় চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে নিহতের বন্ধু ইব্রাহিম ওরফে সাগর গ্রেফতার করা হয়। 

আটক সাগর স্বীকারোক্তিতে জানায়, ঘটনার দিন বিকালে সে ভবেরচর বাজারের ঔষধের দোকানদার লিটন এর দোকান থেকে নেশাজাতীয় ঘুমের ঔষধ Disopan-2 এর ৫টি ট্যাবলেট ক্রয় করে। এরপর নিহতের অটো রিক্সাটি ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে আসামি ইব্রাহিম ওরেফে সাগর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যায় নিহত শাহজালাল এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে পানীয় স্পীড এর মধ্যে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে ভিকটিমকে খাওয়ালে ভিকটিম চিল্লাচিল্লি করে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তখন গাড়িতে থাকা দড়ি দিয়ে তার হাত, পা বেঁধে সুবিধামত সময়ে নির্জন এলাকায় কাঞ্চন নদীর খালে ফেলে দিয়ে অটো রিক্সাটি নিজে চালিয়ে পালিয়ে যায়। কুমিল্লা জেলার চান্দিনায় পরের দিন অপর আসামী বন্ধু ফাহিম এর নিকট ৪৭,০০০/- (সাতচল্লিশ হাজার) টাকায় বিক্রি করে দেয়। একই দিন ফাহিমকে রাত ৯ টার সময় গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার তথ্যের ভিওিতে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত অটো রিক্সাটি কুমিল্লার কোতয়ালী থানার দাউদেরখাড়া সাকিনস্থ তার নিজ বাড়ী থেকে অটোরিক্সাটি জব্দ করা হয়।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত