ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন মাদারীপুর ১

বিএনপিসহ সব প্রার্থীকে পিছনে ফেলে এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা

  এসআর শফিক স্বপন, মাদারীপুর 

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১০ |  আপডেট  : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫১

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর ১ (শিবচর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর। অনেকটা পিছিয়ে বিএনপি’র প্রার্থী। স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীই বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা। স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামাল মোল্লাকে প্রথমে বিএনপি’র মনোনয়ন দিয়ে পরে তা স্থগিত করে। পরবর্তীতে নাদিরা আক্তার মনোনয়ন পেয়ে বিএনপি’র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছে। বিএনপি মনোনয়ন হারিয়ে কামাল জামাল মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করছেন। বিএনপি’র প্রভাবশালী দুই নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও নাবিলা চৌধুরী বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন। তারা আপন দুই ভাই বোন। মনোনয়ন না পেয়ে বোন নাবিলা চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও ভাই সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। বিএনপি’র তিন নেতা নির্বাচন করায় তিন ভাগে বিভক্তি হয়ে পরেছে বিএনপি’র নেতা কর্মীরা । মাদারীপুর জেলাটি আওয়ামী অধ্যুষিত হওয়ায় যে প্রার্থী আওয়ামীলীগের ভোট নিজের ঘরে বেশী নিতে পারবে তিনিই নিশ্চিতভাবে জয়লাভ করবেন বলে ধারনা করা যায়। কামাল জামান মোল্লার পারিবারিক রাজনীতিই বলে দেয় আওয়ামীলীগের ভোট সবচেয়ে বেশী তিনিই ঘরে নিতে পারবেন । 

কামাল জামান মোল্লা ও তার পারিবারিক রাজনীতি : ছাত্রলীগের হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রাখেন কামাল জামান মোল্লা। দীর্ঘদিন তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন এবং একসময় উপজেলার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচেন শিবচরে একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনি জাপান চলে যান। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে তিনি জাপান থেকে বাংলাদেশে আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পৈত্রিক জাহাজের ব্যবসার হাল ধরেন সাথে ভাসাভি ফ্যাসন নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেসময় দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন তিনি। ২০০৭ সালের কেয়ারটেকার গভমেন্ট এর শেষ দিকে তিনি বিএনপি’র রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০০৮ সালের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে হরিণ মার্কায় নির্বাচন করেন। দীর্ঘদিন সক্রিয় ও প্রভাবশালী বিএনপির নেতা ও দাতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন কামাল জামান মোল্লা। নির্বাচনে কামাল জামান মোল্লার অবস্থানের পাশাপাশি বড় ভাই প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা আ. লতিফ মোল্লার পরিচিতি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে। এই প্রভাবশালী নেতা শিবচরে ৯ বছর পৌর মেয়র ও ৫ বছর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। ৫ আগষ্টের পর তিনি শিবচর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এই আসনের আওয়ামীলীগের বেশীরভাগ ভোটই কামাল জামান মোল্লার ঘরে উঠবে বলে মনে করেন শিবচরের অনেকেই।

কামাল জামান মোল্লা বলেন, আমি দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতা আমাকে মনোনয়ন দিয়ে দল সেই স্বীকৃতি দিয়েছে। কিছু কুচক্রি মহলের কারণে দলের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়লাভ করে এই আসন বিএনপিকেই সমর্পণ করবো।

বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার : নাদিরা আক্তার ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপি’র প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের গৃহবধু। স্বামী মরহুম নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি। তার শশুর শামছুল হুদা চৌধুর জিয়াউর রহমানের সময়ে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি মারা গেলে তার ভাই আলতাব হোসেন চৌধুরী উপ-নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এই পরিবার থেকে রানৈতিক হাল ধরেন নাজমুল হুদা মিঠু চৌধুরী। মিঠু চৌধুরী মারা গেলে তার স্ত্রী গৃহবধু নাদিরা পা রাখেন বিএনপি’র রাজনীতিতে। এবছর তিনি বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অনেকটা বিপাকে পরেছেন তিনি। এই দুই প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিজের পক্ষে না আনতে পারলে নাদিরা আক্তারের বিজয়টা হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করেন বিএনপি’র অনেক নেতা কর্মীরা।

বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, আমরা বিএনপি’র ক্রান্তিকালে সবাই একত্রে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। কথা ছিল দল যাকে নমিনেশন দিবে আমরা সবাই মিলে তার হয়ে কাজ করবো। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। আমি সবাইকে আহŸান করি বিভক্ত না হয়ে ধানের শীষ মার্কার নির্বাচন করে দলকে শক্তিশালী করি। 

বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী : বর্ষিয়ান সাংবাদিক ও জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত মোতাহার হোসেন সিদ্দিকী’র ছেলে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও নাভিলা চৌধুরী দুই ভাই বোন বিএনপি থেকে নমিনেশন চেয়েছেন। ভাই-বোন দুজনই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত। নাবিলা চৌধুরী একসময় সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বোন নাবিলা চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী শক্ত একটা অবস্থায় থাকবে।  

সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আমার জীবনের সবটুকুই করেছি বিএনপি’র জন্য। আমার বয়স এখন ৭০ বছর। পরবর্তীতে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছি। শিবচর উপজেলার জনগণ আমাকে ভালবাসে। কাজেই আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব এটা নিশ্চিত।


 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত