সরিষার বাম্পার ফলনের আশা

কাউনিয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩১২৫ মেঃ টন

  সারওয়ার আলম মুকুল

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৮ |  আপডেট  : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৪

কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দিগন্তজুড়ে হলুদ চাদরে ঢেকে গেছে। শীতের শিশিরভেজা সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে হলুদের আভা। কাউনিয়ায় দিগন্তজোড়া মাঠ এখন শুধু সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য। মনে হয় প্রকৃতি যেন তার রূপের সবটুকু উজাড় করে হলুদ চাদরে সেজেছে। ভোরের হিমেল বাতাসে সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে চারপাশ আমোদিত। শুধু সৌন্দর্যই নয়, চরাঞ্চলসহ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে চলতি মৌসুমে কৃষকের চোখে এখন রঙিন স্বপ্ন সরিষার বাম্পার ফলনের আশায়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন দপ্তর জানায়, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নে ১২৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আবাদের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে তিস্তা বিধৌত চরাঞ্চলের দোআঁশ মাটিতে এবার সরিষার রেকর্ড ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বারি সরিষা-৯, ১৪, ১৫ এবং রাই সরিষার হলুদ ফুলে এখন প্রজাপতির মেলা। মধু সংগ্রহে মৌমাছিদের গুনগুন শব্দে মুখর চারপাশ। কৃষকরা জানান, অতীতে সরিষা চাষে অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে কৃষি অফিসের বিশেষ নির্দেশনায় এবং স্বল্প মেয়াদি ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ সহজলভ্য হওয়ায় চিত্র বদলে গেছে। দোআঁশ জমিতে আলু বা গম চাষের চেয়ে কম খরচে সরিষা বুনে তারা এখন দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সরিষা কাটার পরপরই একই জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ করা যায়। নিজপাড়া গ্রামের সরিষা চাষি প্রহলাদ চন্দ্র জানান, একসময় ফলন ভালো না হওয়ায় সরিষা চাষ প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু এবার বিনা থেকে বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার পাওয়ায় আবারও সাহস করে আবাদ করেছি। ক্ষেতের অবস্থা দেখে মন ভরে যাচ্ছে। একই চিত্র তালুতশাহবাজসহ বিভিন্ন গ্রামে। সেখানকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম জানান, এবার কোনো বড় ধরনের রোগবালাই নেই। প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে শুঁটি এসেছে, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন হয়েছে ৩১২৫ মেঃটন। উৎপাদন লক্ষ্য অর্জনে ১৫২০জন চাষিকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় এনে জমিতে সরিষা চষ করানো হয়েচে। কৃষকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এবার সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা তার। ভোজ্যতেলের সংকট কাটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে। 
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত