কষ্টে শ্রমজীবী হাজারো মানুষ

আদমদীঘিতে ওএমএসের ডিলার আছে-নাই চাল ও আটা  বরাদ্দ

  আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০ |  আপডেট  : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০০

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা ও রেলওয়ে জংশন শহরে ওএমএসের ছয় জন ডিলার থাকলেও তাদের অনুকূলে দেড় বছরের অধিক সময় ধরে প্রতিদিন চাল-আটা বরাদ্দ ও বিক্রি বিতরণ করা হচ্ছে না। এতে করে বেশ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন শহরটির হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ওএমএসের বিদ্যমান নীতিমালা মোতাবেক শ্রমঘন শহরে প্রতিদিন চাল-আটা বিক্রি ও বিতরণ বিধান রয়েছে। কিন্তু এই শহরে সেটা কার্যকর নাই। 

জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর উপজেলায় ডিলার সংখ্যা বৃদ্ধি করে নয় জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা সদরে তিন জন। এই তিন জনের মধ্যে সমন্বয় করে দুই জন ডিলারের মাধ্যমে সপ্তাহে প্রতিদিন (সরকারি ছুটি বাদে) অর্ধ মেট্টিক টন করে মোট এক মেট্টিক টন করে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু ডিলার নিয়োগ করার পর থেকে শ্রমঘন সান্তাহার শহরের ডিলারদের মধ্যে প্রতিদিনের চাল ও আটার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবুল বাশার খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সান্তাহার শহর শ্রমঘন বটে। কিন্তু সান্তাহার শহরের ওএমএসের ডিলারদের প্রতিদিন কেন (সরকারি কর্মদিবসে) চাল ও আটা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না সেটা আমার জানা নেই। তবে মন্ত্রনালয় বা অধিদপ্তর থেকে চিঠি পেলে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এব্যাপারে সান্তাহার শহরের ছয় জন ডিলারের মধ্যে মামুনুর রশিদ ও শাহজাহান আলম স্বপন নামের দুই ডিলারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, প্রতিমাসে একবার করে সামান্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয় কিন্তু সেই বরাদ্দের চাল দিয়ে দিতে হয় টিসিবি ডিলারদের। আমরা গত প্রায় দেড় বছর ধরে নিজের দোকানে কোন চাল-আটা বিক্রি ও বিতরণ করার সুযোগ পাইনি। এতে করে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। শহরের সাহেবপাড়া এলাকার গৃহকর্মি ফুরতন বেগম ও হতদরীদ্র লিপি খাতুন, চাবাগান ও মালশন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বুলবুল ও নয়ন হোসেন  বলেন, টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ) থেকে পরিবার প্রতি এক মাসের জন্য চাল দেওয়া হয় মাত্র পাঁচ কেজি। সেই পাঁচ কেজি চাল যায় ৪/৫ দিন। মাসের বাঁকি সময় হাট বাজার থেকে প্রায় ডবল দামে চাল কিনে খেতে হয়। কিন্তু ওএমএসের দোকান থাকলে মাসের যে কোন সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণ চাল ও আটা কমদামে তথা ৩০ ও ২৪ টাকা কেজি দরে কিনতে সহজ হত এবং হাট বাজারের দামের চেয়ে অর্ধেক টাকা সাশ্রয় হত, যে টাকা দিয়ে অন্যান্য নিত্যপণ্য কেনা যেত। এতে আমাদের মত দরীদ্র মানুষেরা আর্থিক কষ্ট থেকে রেহাই পেতেন। এবিষয়ে সচেতন পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, টিসিবির কার্ডধারী অর্ধেকেরও বেশী মানুষ হয় মধ্যবিত্ত না হয় নিম্নবিত্ত। এই শ্রেনির মানুষরা মোটা আকারের চাল খায় না। কিন্তু  টিসিবি থেকে কিনতে বাধ্য হয়। সেই মোটা চাল বাজারে  বিক্রি করতে গিয়ে পড়েন নানা বিড়ম্বনায়। সেকারণে টিসিবি থেকে চাল বিক্রি বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন।  

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত