ঈদকে সামনে রেখে জামালপুরে তৈরী হচ্ছে ভেজাল সেমাই

  ছাইদুর রহমান,  জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২৬, ২০:১৯ |  আপডেট  : ৩ মার্চ ২০২৬, ২২:৩২

ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে জামালপুরের বিভিন্ন স্থানের সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আর স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে তা হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। পচা ডিম, পশুর চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এ লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। 

জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় থিতি মনি ফুড বেকারী নামের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার কারী সোহলী শেখের পুত্র বাবুল মিয়া এই লাচ্ছা সেমাই তৈরি ও বাজারজাত করছে । তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলেন, ১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোন সমস্যা নেই,সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি। 

স্থানীয়রা জানান, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এই সেমাই খোলা অবস্থায় ও পলি প্যাকেটে বিক্রির বাজারজাত করে আসছেন। মানুষের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাচ্ছা সেমাই শহরের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় হাটবাজার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে অবাধে পাঠানো হচ্ছে। ভেজালবিরোধী অভিযান শিথিল হয়ে পড়ায় অধিক মুনাফার আশায় এসব লাচ্ছা সেমাইতে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যবহারের অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেলসহ পোড়া তেল। 

নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন ও হেডকভার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এই বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন। 

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্য বিষক্রিয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে। 

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সেমাই তৈরি বিষয়ে মেলান্দহ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্ন মানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে আমিও জানি। তাকে বকাঝকা দিয়ে আসছি। তবে তার অনুমোদিত কোন লাইসেন্স নেই, আপনি লেখেন, লেখলে আমার সুবিধা হবে। 

এদিকে, আজ মঙ্গলবার ৩ মার্চ জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা নয়াপাড়ায় একটি সেমাই কারখানায় অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ অভিযানে ভোক্তা সংরক্ষণ আইন অমান্য করায় কারখানার মালিক আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকার উপায়ে সেমাই তৈরীর দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। জামালপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় আইনমৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করেন। জানা গেছে, নয়াপাড়া বাদামবাড়ী এলাকার আশরাফ আলী অন্যান্যবারের মতো এবারো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিজবাড়ীতে সেমাই কারখানা চালু করেছেন। এবং বিএসটিআই অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই  অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিবারের সদস্য ও শ্রমিকদের নিয়ে সেমাই তৈরী করছিলেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়। 

অপরদিকে, সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে। উৎসবের আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, এটাই প্রত্যাশা তাদের।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত