নন্দীগ্রামে শীতে খেজুর রস খেয়ে তৃপ্তি পাচ্ছে রসপ্রেমীরা
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৭ | আপডেট : ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২
শীতের কুয়াশাঘনো ভোরে খেজুর গাছের নিচে সারি সারি মিষ্টি রসে ভরা হাড়ি এই দৃশ্য যেনো শীতের সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসা এক প্রাচীন ঐতিহ্য। খেজুরের রসকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে পিঠাপুলি ও পায়েসের আয়োজন। যে কারণে বেড়েছে খেজুর রসের চাহিদা।
নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বর্ষণ গ্রামে সরেজমিনে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি খেজুর গাছ। শীতের সকালে সেই গাছগুলোর নিচে ভিড় করছেন রসপ্রেমীরা। রসে ভরা হাড়ি নামানোর পর কাঁচা রস পান করে তৃপ্তি পাচ্ছে তারা। স্থানীয় রসপ্রেমী মানিক মিয়া বলেন, শীত এলেই খেজুরের রসের জন্য মনটা কেমন যেনো হয়। আমরা শীতের শুরুতেই কিছু গাছে হাড়ি বা ঠিলা লাগাই শুধু রস খাওয়ার জন্য। এই রসের স্বাদ আলাদা। এই রস দিয়ে পিঠাপুলি ও পায়েস তৈরি করা হয়। আবার অনেকেই খেজুর রস সংগ্রহ করে তরল ও পাটারি গুড় তৈরি করে। আর খেজুর গুড়ের অনেক চাহিদা রয়েছে। অনেকেরই শীতের আনন্দটাই যেনো খেজুর রস ও গুড়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীত উপেক্ষা করে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রস সংগ্রহকারীরা। প্রতিদিন বিকেল হলেই তারা খেজুর গাছের উপরের সাদা অংশ পরিস্কার করে ছোট-বড় মাটির হাড়ি বেঁধে রাখেন। সারারাত ধরে সেই হাড়িতে জমে মিষ্টি রস। ভোরে উঠে সেই রস সংগ্রহ করেন তারা। নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ। যেগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ রস সংগ্রহ করে গুড় উৎপাদন করা হয়। বাজারে প্রতিকেজি খেজুরের তরল গুড় ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ও পাটারি গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক গ্লাস কাঁচা রস ১৫-২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শীতের খেজুর রস ও গুড় বিক্রি করে অনেকেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় শীত এলেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়। খেজুর রস এবং গুড় দিয়ে পিঠাপুলি ও পায়েস তৈরি করা হয়। এই জন্য খেজুর রস ও গুড়ের চাহিদা এখন অনেক বেশি কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, দিন দিন এই এলাকায় খেজুর গাছ মরে কমে যাচ্ছে। এভাবে কমতে থাকলে একসময় হয়তো এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, খেজুর রসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বেশি বেশি খেজুর গাছ রোপণ করা জরুরি।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত