প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ, প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭ | আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০
বাংলাদেশের আকাশে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর ফলে আজ শুক্রবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে। প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক মাঠটিকে ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ‘জাতীয় ঈদগাহ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে সিটি করপোরেশন। এবারও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে টানা ২৮ দিনের কর্মযজ্ঞে ময়দানটিকে নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঠিকাদারের কর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদগাহের প্যান্ডেল তৈরিতে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠামোটিকে মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনেরও বেশি রশি।এছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি থেকে মুসল্লিদের সুরক্ষা দিতে প্যান্ডেলের ওপর প্রায় ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল টানানো হয়েছে এবং আলোর জন্য লাগানো হয়েছে প্রায় ৯০০টি টিউবলাইট।
এদিকে এবার দীর্ঘ ৩৬ বছর পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা জামাতে অংশ নেবেন।
প্রটোকল অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারী ভিআইপি সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর আলাদা নামাজের স্থান ও পর্দার বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্যান্ডেলের ভেতরে নামাজের কাতারগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো মাঠে সর্বমোট ১২১টি কাতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫টি বড় আকারের এবং ৫৬টি ছোট আকারের কাতার রাখা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে প্রতিবারের মতোই ঈদগাহের অভ্যন্তরীণ স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে আশপাশের খোলা জায়গা ও সংলগ্ন সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন।
মুসল্লিদের স্বস্তি দিতে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টি ফ্যান লাগানো হয়েছে, যার মধ্যে ৯০০টি সিলিং ফ্যান এবং ২০০টি স্ট্যান্ড ফ্যান। এছাড়া ভিআইপি কাতারগুলোতে এসির বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওজু করার জন্য প্যান্ডেলের ভেতরেই ১৪০ জন মুসল্লির জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারীরা আলাদাভাবে ওজু সারতে পারবেন। পাশাপাশি পুরো এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য রাখা হয়েছে মোট চারটি ফটক। নামাজ শেষে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে বের হওয়ার সাতটি পথ। জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় দুটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া পুরো ঈদগাহ এলাকাটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত