চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৬
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯ | আপডেট : ১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৫
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে পূর্বশত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির হামলায় জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৫২) নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় তার ছোট ভাই হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানসহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুরো উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে।
আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ২টার দিকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াত কর্মী সুটিয়া গ্রামের মাহদি হাসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মাহদি হাসানকে সুটিয়া গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের পর হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ঘটনার পরই হাসপাতালে ছুটে আসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ঢাকা পোস্টকে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কা/আ
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত