একীভূত পাঁচ ব্যাংক: সুদ সহ আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৩ | আপডেট : ৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:০২
মুনাফাসহ গচ্ছিত আমানতের সম্পূর্ণ টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মতিঝিল শাপলা চত্বরের প্রধান সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকেরা দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের পাওনা আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। আজকের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘হেয়ার কাট’ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনরত আমানতকারীদের মূল অভিযোগ হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়মটিই ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যা সাধারণ আমানতকারীদের জন্য চরম অমানবিক ও অন্যায্য বলে মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, অনেক গ্রাহক বর্তমানে তাদের জমানো মূলধন ও মুনাফা তুলতে না পেরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আমানতের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এই মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচটি ব্যাংকের মুনাফা কেটে মাত্র ৪ শতাংশ ‘সরকারি অনুকম্পা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আমানতকারীদের অধিকারের পরিপন্থী।
দাবি আদায় না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করার মতো আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভের কারণে মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে সেখানে মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তারা দ্রুত এই সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আজকের এই ঘটনার পর মতিঝিল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত