২৪০০ কোটি ডলার ছাড় না হলে সংঘাত বাড়বে, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ১১:১১ | আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৩:০৯
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অগ্রগতি এখন বড় ধরনের জটিলতায় আটকে আছে। মূল ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে প্রায় ২৪০০ কোটি ডলারের অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, এই অর্থ ছাড়কে কেন্দ্র করেই আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং এ পরিস্থিতি নিরসনের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরই বর্তেছে।
তেহরানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনা এখন সম্পূর্ণ স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।”
জানা গেছে, ইরান অন্তর্বর্তী সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ১২০০ কোটি ডলার এবং পরে আরও ১২০০ কোটি ডলার অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অর্থ মুক্ত করলে ইরানের ওপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ চাপ কমে যাবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যেকোনো নতুন চুক্তি অবশ্যই ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে কঠোর হতে হবে এবং এতে কোনোভাবেই বড় অঙ্কের নগদ অর্থ হস্তান্তরের বিষয় থাকতে পারবে না।
সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজায়ি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংঘাত নতুন করে শুরু হয়, তবে তা শুধু পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং হরমুজ প্রণালি, ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক লক্ষ্য হবে শুধু আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলো নয়, বরং নতুন মাত্রায় আরও বিস্তৃত কৌশল গ্রহণ করা হবে।
তবে একই সঙ্গে তিনি সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা কম বলেও মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি এবং স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমানে এমন কোনো বৈঠক হবে না। অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো এবং বৈঠক হলে তিনি সম্মানিত বোধ করবেন।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে মোহসেন রেজায়ি দাবি করেন, এটি ইরান ও ওমানের যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যার ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ফি নেওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো শুল্ক বা কর নয়, বরং সমুদ্রপথ পরিচালনার ব্যয় মেটানোর ব্যবস্থা।
মোহসেন রেজায়ি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দেশটির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা কমার বদলে আরও জটিল দিকে অগ্রসর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত