সরকার গঠন করতে পারলে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কাজে হাত দিতে চাই: তারেক রহমান

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪৪ |  আপডেট  : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৪

নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কাজে হাত দিতে চাই উল্লেখ করে বিএনপির দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বহু বছর পরে আপনাদের সাথে দেখা হলো। ২২ বছর পরে আপনাদের এখানে শেষ এসেছিলাম আমি ২২ বছর আগে ২০০৪ সালে। কয়েকবার এসেছিলাম। তখন চার বছর আগে কয়েকবার এসেছিলাম। সেই সময় রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছিলাম। শীতের সময় গিয়েছিলাম গরীব দোস্ত মানুষকে কম্বল পৌঁছে দিতে। গরমের সময় ছিলাম মা বোন দোস্ত মা বোন নারী যারা ছিলেন তাদেরকে এসছে হাস ছাগল এগুলো বিতরণ করার জন্য কাজেই আপনাদের সাথে আমার একটি আত্মার সম্পর্ক রয়ে গেছে রাজশাহীর মানুষের সাথে। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। 

তারেক রহমান বলেন,প্রিয় ভাই বোনেরা আজ এটি নির্বাচনী জনসভা তাইতো? আমি কি বললাম এটা শুনে গিয়ে এলাকার মানুষকে বলতে হবে। কাজেই কথা শুনতে হবে। এখন যেহেতু এটা নির্বাচনী জনসভা নির্বাচনী জনসভায় কি হয়ে থাকে? নির্বাচনী জনসভায় একদল আরেক দল সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলে থাকেন। তবে আজকের এই নির্বাচনী সভাটা আমরা ভিন্নভাবে করতে চাই, ভিন্ন কথা বলতে চাই। ভিন্নভাবে করতে চাই, ভিন্ন কথা বলতে চাই। কি সেই কথা? 

আপনাদের কথা আমি বলতে চাই, জনগণের কথা আমি বলতে চাই, এলাকার মানুষের কথা আমি বলতে চাই। যেই কথাগুলো বললে, যেই বিষয়গুলো আলোচনা করলে পরে মানুষের উপকার হবে এলাকার মানুষের উপকার হবে, জেলার মানুষের উপজেলার মানুষের উপকার হবে। প্রিয় ভাই বোনেরা, যখনই অন্য জেলার মানুষ রাজশাহী নিয়ে কথা বলে, তখন দুটো বিষয় তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। প্রথমে কোন জিনিসটা ভেসে উঠে বলেন তো কোন জিনিসটা প্রথমে রাজশাহী বললেই কোনটা বুঝায়। পদ্মা নদী, পদ্মা নদী। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এইযে পদ্মায় বলেন, তিস্তায় বলেন, ব্রহ্মপুত্রই বলেন, যেই নদী বলেন পানি আছে? কোন পানি নাই। পদ্মা সাথে যে খালগুলো সেগুলোতে কোন পানি আছে? কোন পানি নাই। এরপরে আসেন রাজশাহী বললে কি বোঝায়? শিক্ষানগরী তাইতো? শিক্ষানগরী বোঝায়। এই নগরীতে বহু শিক্ষিত উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে বহু মানুষ আজকে কর্মসংস্থান অভাবে ঘরে বসে আছে। এখানে আইটি পার্ক করেছে। কিন্তু কোন কাজ হয় না। আইটি পার্কে হয় কোন কাজ? কোন কাজ হয় না। এখন এই বিষয়গুলো আমাদেরকে নজর দিতে হবে তাই না? 

আমাদের নদীতে পানি দরকার। কেন পানি দরকার; এই রাজশাহীসহ এই বিভাগটা এই বিভাগে এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এই বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যের দ্বিগুণ উৎপাদন করে দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন করে। এখন সেই বরেন্দ্র প্রকল্প প্রায় আজ বন্ধ অবস্থা। তাইতো নাকি। আচ্ছা আমি তো ভাই বহু বছর পরে আসছি। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে বলতে হবে তোমাকে। তাহলে আমি জানবো কেমন করে? আচ্ছা। এই বরেন্দ্র প্রকল্প শহীদ জিয়া যেটা রেখে গিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আরো বড় করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিশাল একটি প্রজেক্ট। আপনাদের ধারণ ছিল শুধু যে খাল, শুধু যে রাস্তা তা না এটাতে বনের ব্যবস্থা ছিল। ছোট ছোট ছোট বনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল কিন্তু। বিগত ১৭ বছর আমরা দেখেছি যে, এটাতে কোন কাজ নেই। সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরেন্দ্র প্রকল্প সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল। যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সেই বরন্দ প্রকল্পকে ধামাচাপা যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সেই বরন্দ প্রকল্পকে ধামাচাপা। আচ্ছা আমি তো ভাই বহু বছর পরে আসছি। আমি কিছু জিজ্ঞেস করলে বলতে হবে তোমাকে। তাহলে আমি জানবো কেমন করে? আচ্ছা। এই বরেন্দ্র প্রকল্প শহীদ জিয়া যেটা রেখে গিয়েছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় আরো বড় করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিশাল একটি প্রজেক্ট। আপনাদের ধারণ ছিল শুধু যে খাল, শুধু যে রাস্তা তা না এটাতে বনের ব্যবস্থা ছিল। ছোট ছোট ছোট বনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল কিন্তু। বিগত ১৭ বছর আমরা দেখেছি যে, এটাতে কোন কাজ নেই। সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরেন্দ্র প্রকল্প সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল। যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। প্রিয় ভাই বোনেরা আমরা এই বরেন্দ্র প্রকল্পকে চালু করতে চাই সঠিকভাবে। আমার এই এলাকার খালগুলোকে খনন করতে চাই। পদ্মা নদীকে আমরা খনন করতে চাই। আরেকটি কাজ করতে চাই, যদি আপনাদের সমর্থন থাকে, ধানের শীষ সরকার গঠন করলে ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজে হাত দিতে চাই। পদ্মা ব্যারেজ যদি ইনশাল্লাহ আমরা তৈরি করতে পারি এলাকার মানুষের পুরা এলাকার মানুষের উপকার হবে রাজশাহী সহ নাটোর চাঁপাইনাবগঞ্জও। ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারাজের কাজে হাত দিব। প্রিয় ভাই বোনেরা, এগুলো হচ্ছে কতগুলো পুরনো পরিকল্পনা; যেগুলোকে আমরা নতুন করে চালু করব।  খাল খনন কর্মসংস্থান,পদ্মা ব্যারেজের কাজে ইনশল্লাহ হাত দিব যত দ্রæত সম্ভব। কিন্তু তার জন্য আপনাদেরসহ এই পুরো অঞ্চলের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যেকটি মানুষকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। কারণ এই বরেন্দ্র প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই ঠাকুরগাঁ, পঁঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা সুবিধা পেয়ে থাকে। সেই পর্যন্ত চলে গিয়েছে এটার প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা। কাজেই সে পদ্মা ব্যারেজই হোক, আর বরেন্দ্র প্রকল্পই চালুই হোক না কেন এটার সুবিধা সকল মানুষ পাবে। কৃষক পাবে। কৃষি কৃষাণী বোন পাবে, কৃষক ভাই পাবে সাধারণ মানুষ পাবে। 

কারণ উৎপাদন যখন বাড়বে স্বাভাবিকভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে। কিন্তু একই সাথে আমাদেরকে নজর রাখতে হবে যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য কোল্ড স্টোরেজে ঠিকভাবে রাখতে পারে হিমাগারে রাখতে পারে। এই যে এখানে আমবাগান আমাদের, এই যে চাঁপাই শহর যে আমবাগান আমাদের এখানে আমকে সংরক্ষণ করার জন্য কোন হিমাগার নেই, আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে একটি আছে কিভাবে আমকে সংরক্ষণ করা যায়। আরো বেশি কিছুদিন রাখা যায় সেটা। পরীক্ষা করে আমরা আমের জন্য হিমাগার তৈরি করতে চাই। এই এলাকায় প্রিয় ভাই বোনেরা এবার আসেন এবার আসেন আরেকটি কথা বলি। ওই যে বললাম ব্যারেজের কথা আরেকটি কথা মনে আসে শিক্ষা নগরী। এখানে মানুষ শিক্ষিত আছে উচ্চ শিক্ষিত মানুষ আছে আইটি পার্ক আছে। কিন্তু কোন কাজ নাই। আমরা এই আইটি পার্ককে সচল করতে চাই। আইটি পার্ককে সচল করার মাধ্যমে শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত যে মানুষগুলো বিশেষ করে যারা আইটিতে কাজ করেন তাদের আইটি সংক্রান্ত যেই কাজগুলো তাদের দরকার এই মুহূর্তে আইটি সংক্রান্ত কাজ বলতে আমাদের যে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো আছে যে কয়েকটা শুধু ওই কয়টাতেই কাজ করা যায় এর বাইরেও বহুত কাজ আছে। যারা আইটিতে আমাদের অনেক তরুণ যুবক তরুণ আছে অনেক যুবক আছে যারা এই কাজে পারদর্শী কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের উপায় নাই। আমরা সেই উপায়টি তৈরি করতে চাই। আইটি পার্কের মধ্যে সেই উপায়টিকে তৈরি করতে চাই। একই সাথে আমরা এই বিভাগে ভকেশনাল তৈরি করতে চাই যে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরি করার মাধ্যমে আমরা আমাদের ছেলেদেরকে আমরা আমাদের বোনদেরকে ট্রেনিং দিব এবং সেই বিভিন্ন ট্রেনিং দেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকে আমরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। 

যাতে করে তারা দেশের ভিতরে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারে অথবা সেই ট্রেনিং পাওয়ার পরে তারা বিদেশেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। আপনারা দেখেছেন যে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পলিসি গ্রহণ করেছিলেন যে আমাদের নারীদেরকে মেয়েদেরকে শিক্ষিত করতে হবে এবং সেইজন্যই ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে বাংলাদেশে এখন মেয়েদের শিক্ষিত হার যে কোন সমাজে অনেক বেশি কিন্তু শুধু শিক্ষা দিলেই চলবে না শিক্ষার সাথে সাথে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে এবং সেইজন্যই আমরা প্রত্যেকটি মায়ের হাতে প্রত্যেকটি গ্রামে শহরে প্রত্যেকটি মায়ের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ড দল পথ নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মা এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে আইডি কার্ডের মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে মিনিমাম কিছু সুযোগ সুবিধা পাবে যাতে করে মাসে তাদের সংসারের ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারে তারা সংসারের চালানোর যে ধাক্কা সেই ধাক্কাটি মা বোনরা তাদের সামলে উঠতে পারে। প্রিয় ভাই বোনেরা আমরা এই এলাকায় বহু মানুষ এখান থেকে আপনাদের সামনে যে অন্য দেশে চলে যাই চিকিৎসার জন্য। বছরে বহু মানুষ এইখান থেকে পার হয়ে চিকিৎসার জন্য যায়। এটা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা তারা নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই এবং এই অবস্থার পরিবর্তন করার জন্য আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে যে রাজশাহীতে রাজশাহীতে আমরা বিশেষায়িত কোন হাসপাতাল তৈরি করতে পারি কিনা। যার ফলে এই এলাকার মানুষ সমগ্র দেশের মানুষ চিকিৎসার সুবিধা পায়। যাতে করে আমরা বৈদেশিক সুখ মুদ্রা দেশে রেখে দিতে পারি। যাতে করে দেশের মানুষ দেশে থেকেই ভালো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। প্রিয় ভাই বোনেরা, এই রাজশাহী সহ উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষি নির্ভর। প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষির পেশা। কৃষি পেশার সংক্রান্ত যে সকল ইন্ডাস্ট্রি করা সম্ভব সেগুলোর একটি তালিকা কম বেশি আমরা তৈরি করেছি। এবং ইনশাল্লাহ। 

নির্বাচনের পরে সরকার গঠনে সক্ষম হলে সরকার থেকে সব রকম সহায়তা দেওয়া হবে। যে সকল উদ্যোক্তা কৃষি সংক্রান্ত মিল ফ্যাক্টরি এই রাজশাহী সহ পুরো উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করবে তাদেরকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। যাতে করে তারা মিল ফ্যাক্টরি করতে পারে। কারণ তারা যদি মিল ফ্যাক্টরি করে তাহলে এই এলাকার সন্তানরা সেটি রাজশাহী জেলা হোক, সেটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষ হোক তাহলে তারা তাদের কর্মসংস্থানের সুবিধা হবে। প্রিয় ভাই বোনেরা, যেহেতু রাজশাহী সহ উত্তর অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। যদিও সমগ্র বাংলাদেশেরই অধিকাংশ মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। দেশের বৃহৎ একটি জনসংখ্যার বৃহৎ একটি অংশ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। কাজেই কৃষক যদি আজকে ভালো থাকে। তাহলে অবশ্যই। দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক যদি আজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালীভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তাহলে দেশের মানুষও সহজেই কৃষি উৎপাদিত যেগুলা পণ্য আছে সেগুলো তারা সহজেই তাদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। সেগুলো এবং সেই জন্যই কৃষক ভাইদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা ঠিক ফ্যামিলি কার্ড যেরকম মায়েদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড একটি করে পৌঁছে দিতে চাই। 

প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে যার মাধ্যমে তারা ব্যাংকের ঋণ সহ যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে কীটনাশক ঔষধ বীজ সহ সার সহ এই সুবিধাগুলো সরাসরি আমরা কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই এবং আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা হিসাব নিকাশ করে দেখেছি। তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের কৃষি ঋণ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আছে ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন সুদসহ মৌকুফ করব ইনশাআল্লাহ।প্রিয় ভাই বোনেরা, বিগত ১৬ বছর ১৭ বছর এই দেশের সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার যেরকম কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এই দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার যেমন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ঠিক দেশের মানুষের জন্য কোন কাজ করা হয় নাই।আমরা দেখেছি যে কিভাবে কতগুলো মেগা মেগা প্রকল্প করা হয়েছে এবং এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মেগা দুর্নীতি কিন্তু এলাকার মানুষের জন্য রাস্তাঘাট নির্মাণ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো মা বোনদের পাশে দাঁড়ানো। 

এইরকম কোন কাজ এলাকার হাসপাতাল এলাকার স্কুল কলেজগুলো ঠিক করা শিক্ষক ঠিকমতন পাঠানো ডাক্তার ঠিকমতন পাঠানো এগুলো কোন কাজ বিগত ১৬-১৭ বছর হয় নাই। কাজেই এখন এই যে ৫ই আগস্টে একটি পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তনটি যেটি হয়েছে এই পরিবর্তনটি হতে হবে জনগণের কাঙ্খিত পরিবর্তন। অর্থাৎ এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে এই পরিবর্তন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন যাতে পারে এবং সেজন্যই সেজন্যই আজকে আমাদের জন্য এই ১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয় ভাই বোনেরা, ১২তারিখে বাংলাদেশের মানুষকে আজকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদেরকে। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা আগামী দিন দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব? দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব নাকি দেশ অন্য কোন দিকে চলে যাবে? এই বিষয়ে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে দাবিত করি, গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে পরিচালিত করি তাহলে আপনাদের সামনে আমি যে পরিকল্পনার কথাগুলো তুলে ধরলাম, আপনাদের যেই দাবিগুলো বা আপনাদের এই চাওয়া গুলোর কথা তুলে ধরলাম মানুষের উপকার হয় এরকম কাজের কথা যেগুলো আমি তুলে ধরলাম সেই কাজগুলোকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে। জনগণের কোন প্রজেক্ট হবে না। 

কাজেই প্রিয় ভাই বোনেরা জনগণের প্রজেক্টকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের ভিত্তি যদি মজবুত হয় তাহলেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা মূলক শাসন দেশে আসবে। জনগণের কাছে যারা জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে তারাই জনগণের জন্য কাজ করবে। আমরা ঝগড়া ফেজাদ বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না এবং যেতে চাই না বলেই আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে কারো কোন সমালোচনা করছি না। বরং আমি যদি সমালোচনা করি আপনাদের কোন লাভ হবে? আপনাদের পেট ভরবে? পেট ভরবে আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে আপনাদের কৃষি লোন ১০ হাজার টাকা যে মৌকুফ করবো আমরা সেটা করা সম্ভব হবে ওটা করা সম্ভব হবে না সেজন্যই আমি কারো সমালোচনায় যেতে চাই না কিন্তু কোথাও যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘটে থাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আছে তাদেরকে বলব সঠিক সুষ্ঠ তদন্ত করুন সঠিক সুষ্ঠ তদন্ত করুন। সেই তদন্তে যদি বিএনপির কোন ভ‚মিকা থাকে সঠিক তদন্ত করার জন্য আমরা সহযোগিতা করবো। সাহায্য করব। কিন্তু অবশ্যই ঘটনার সঠিক তদন্ত হতে হবে সঠিক তদন্ত অনুযায়ী দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে। যদি কোথাও কোন কোন বিভেদ কোন কোন সমস্যা হয়ে থাকে আমাদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কথা আমরা দেশের শান্তি চাই। 

মুসলমান হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ সকলকে নিয়ে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই এই দেশে ৭১সালে যখন দেশ স্বাধীনতার যুদ্ধ হয়েছিল, তখন আমরা যখন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ যখন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন তখন আমরা কেউ দেখিনি কার কোন ধর্ম। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট যখন দেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল সরকারকে বিদায় করার জন্য তখনও আমরা কেউ দেখিনি কার ধর্ম কোনটা কে মুসলমান কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। কাজেই আজ দেশ গড়ার সময় এসেছে। আজ গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সময় এসেছে। আজ আমরা ধর্ম দেখতে চাই না। আমরা দেখব ভোটার। আমরা দেখব মানুষ আমরা দেখব দেশে বাংলাদেশী। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে বাংলাদেশী। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় সে গণতন্ত্র বিশ্বাসী শান্তিতে বিশ্বাসী যারাই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী যারাই শান্তিতে বিশ্বাসী আমরা তাদের সাথে আছি আমরা তাদেরকে আমাদের সাথে রাখতে চাই প্রিয় ভাই বোনেরা প্রিয় ভাই বোনেরা বিগত ১৬ বছর আমরা কয়েকটি তথাকথিত নির্বাচন দেখেছি নিশিরাতের নির্বাচন দেখেছি আমি নির্বাচন দেখেছি গায়েব নির্বাচন দেখেছি দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেন। পেরেছিলেন আপনারা? পারেননি আপনারা ভোট দিতে। তারা চলে গেছে যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু আরেকটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে। কিভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়, কিভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায়।

 আজ এখানে হাজার লক্ষ মানুষ যারা আপনারা উপস্থিত হয়েছেন আপনারা সহ আপনারা যত মানুষের সাথে থাকবে প্রত্যেককে বলবেন যে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যাতে কেউ বাঞ্চাল করতে না পারে। সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। প্রিয় ভাই বোনেরা, আমরা যদি জনগণ যদি ১২ তারিখে সজাগ থাকে সতর্ক থাকে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের দিন ইনশাল্লাহ। এই বাংলাদেশের ১৩ তারিখ থেকে হবে জনগণের দিন। জনগণের প্রত্যাশা জনগণের আশা জনগণের আকাঙ্ক্ষা যে সকল আছে সে সকল বিষয়ের কাজগুলো ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু হবে। কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধানের কাজ শুরু হবে মা বোনদের ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হবে কৃষক ভাইদের কৃষক কার্ডের কাজ শুরু হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানের কাজ শুরু হবে আমাদের তিস্তা পদ্মা ব্যারেজের কাজ আমরা শুরু করব প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করব ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি লোন মাফের কাজ শুরু করব। এই কাজগুলো হচ্ছে জনগণের কাজ। এবং এই কাজগুলো ইনশাল্লাহ ১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত করতে পারে ইনশাল্লাহ ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা। সেজন্যই প্রিয় ভাই বোনেরা সবসময় আমি একটি কথা বলি। শহীদ জিয়া দেশ গড়েছেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ গড়েছেন। এখন আমাদের সকলের পালা দেশ গড়া। কারণ এই দেশই হচ্ছে আমাদের প্রথম এবং এই দেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমি একটি কথা বলি সবসময় সবসময় একটি কথা বলি কথাটি আপনারাও জানেন আমার সাথে দয়া করে কথাটা বলবেন করব কাজ করব কাজ সবার আগে বাংলাদেশ। 

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহŸান জানানো হয়।#
 

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত