শ্রীনগরে সুদ ব্যবসায়ীর অত্যাচারে ভূক্তভোগীদের মানবেতর জীপনযাপন!
নজরুল ইসলাম, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪৪ | আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২১
শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর নতুন বাজার (মলঙ্গি বাজার) এলাকার সুদ ব্যবসায়ী ও রাঢ়িখাল ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জিন্নাত বেপারীর অত্যাচারে বেশ কয়েকটি ভূক্তভোগী পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জিন্নাত বেপারী নতুন বাজারে অবৈধভাবে ঋণ দেয়ার নামে আরাম ফাউন্ডেশন নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন। উপজেলার জগন্নাথ পট্রির নাদিয়া বেগম, নাগর নন্দির ফজল খান, নতুন বাজারের নার্গিস আক্তার, মমতাজ বেগমসহ অনেকেই জিন্নাত বেপারীর কাছ থেকে অধীক মাত্রার সুদে ঋণ নিয়ে পরিবারগুলো এখন আত্মগোপন করে বেড়াচ্ছেন। সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে নতুন বাজারে আসা ব্যক্তিদের আটকিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে সুদ ব্যবসায়ী জিন্নাতের বিরুদ্ধে। জিন্নাতের ভয়ে অনেকেই ওই বাজারে আসা ছেড়ে দিয়েছেন। নতুন বাজারের দোকানীরাও জিন্নাতের এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাননা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নতুন বাজার এলাকার আব্দুল রহিম বেপারী ওরফে খিদির বেপারীর ছেলে মো. জিন্নাত বেপারী স্থানীয় বাজারের বেপারী মার্কেটে ঋণ দেয়ার নামে একটি অফিস খুলেছেন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে নেই কোনও সাইবোর্ড। প্রায় ৮ বছর যাবত তিনি ছাড়পত্রবিহীন অবৈধভাবে ২০ থেকে ৩০ পারসেন্ট হার সুদে ঋণ দিচ্ছেন। আর এসব ঋণ গ্রহিতারা সুদে টাকা দিতে না পারলেই শুরু হয় জিন্নাতের অত্যাচার। প্রায় সময়ই কারও অটো আটক ও ভূক্তভোগীদের আটকিয়ে শারীরিক নির্যাতন করেন। কিস্তি দিতে না পারায় অনেকেই জিন্নাতের ভয়ে পালিয়ে বেড়ান। এঘটনার সত্যতা শিকার করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল মাস্টার। তিনি বলেন, আমি বহুবার নিজের জিম্মায় জিন্নাতের কাছ থেকে অনেক ভূক্তভোগীকে ছাড়িয়ে নিয়েছি। নতুন বাজারের একাধীক দোকানী বলেন, সুদের টাকা নিয়ে জিন্নাত বেপারীর এমন কর্মকান্ডে অনেকেই বাজারে আসা ছেড়ে দিয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
ভূক্তভোগী নাদিয়া বলেন, আমি জিন্নাতের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে টাকা আনি। এপর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এখন রহস্যজনক কারণে জিন্নাত বেপারী ৫ লাখ টাকা দাবী করেন! এনিয়ে বোন জামাই মজিবরের অটো আটক করে জিন্নাত বেপারী। ফজল খান বলেন, ঋণের টাকার জন্য তাকে বাজারে আটক করে জিন্নাত। পরে তার ভাই মো. জিন্নাত খান তাকে ছাড়িয়ে আনেন। এঘটনায় শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন তিনি।
মো. জিন্নাত বেপারীর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দেওয়ার পর থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠে পরে লেগেছে। আরাম ফাউন্ডেশন নামে তার প্রতিষ্ঠানের বৈধতা রয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। সুদের টাকা আদায়ের জন্য একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও শারীরিক নির্যাতন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনও সুদত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা সমবায় অফিসও আরাম ফাউন্ডেশনের বিষয়ে কোনও তথ্য নেই। এব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী বলেন, আরাম ফাউন্ডেশনের কোন বৈধতা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার এএসআই ইসলাম জানান, আমি অভিযোগ পেয়েছি। এখনও সরেজমিনে যেতে পারিনি।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত