শ্রীনগরে প্রবাসীর ৬৫ লাখ টাকা ছিনতাই , ডিবি-র‌্যাব সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭

  নজরুল ইসলাম, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৮ |  আপডেট  : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০০

প্রতীকী ছবি

 

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‌্যাব সদস্যসহ ৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকার সাভার ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)। তাদের শ্রীনগর থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । আসামিদের মধ্যে ২ জন ঢাকা ডিবিতে কর্মরত ও ৩ জন সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে র‌্যাবে কর্মরত আছেন। বাকি দুইজনের মধ্যে একজন ড্রাইভার ও অন্যজনের বাড়ি থেকে লুটের টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার(৭নভেম্বর) সকালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের তিন দোকান এলাকায়  রাস্তার উপর এ ঘটনা ঘটে। পরে গতকাল শনিবার (৮ নভেম্বর) এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সিঙ্গাপুর প্রবাসী আকাশ অসীম (৪৮)। তিনি দোহার উপজেলার পালামগঞ্জ এলাকার মৃত অনিল চন্দ্র দাসের ছেলে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান মামলা ও আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটকদের খুব দ্রুতই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে তাদের নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী আকাশ অসীম ও তার বড় ভাই বিমল চন্দ্র দাস হরি (৫৬) স্থানীয়ভাবে ভাঙারী স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ৬ নভেম্বর তারা মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর বাজারের ‘শ্রীনগর স্বর্ণালয়’ নামের দোকানদার রাজীব দাসের কাছে ২১ ক্যারেটের ৩৯ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করেন। পরদিন (৭ নভেম্বর) ভোর সকালে ওই বিক্রির ৬৫ লাখ টাকা নগদ গ্রহণের পর তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জয়পাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পথে সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে শ্রীনগরের রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের তিন দোকান বাজার এলাকায় পৌঁছালে নাম্বারবিহীন একটি সাদা মাইক্রোবাস তাদের অটোরিকশার গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে নেমে ৮-৯ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন এবং বলেন, তাদের নামে মামলা রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীদের একজনের গায়ে “ডিবি” লেখা জ্যাকেট ছিল এবং কোমরে অস্ত্র ঝুলছিল। তারা আইডি কার্ড দেখতে চাইলে ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির ৬৫ লাখ টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় এবং দুজনের হাতকড়া পরিয়ে হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে ফেলে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা আকাশ অসীমের কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স মোবাইল (মূল্য ৩০ হাজার টাকা) ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোন (মূল্য ২০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। এরপর আকাশ অসীমকে পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের পুরাতন ফেরিঘাটে ফেলে দেয় এবং তার ভাইকে নিয়ে মাওয়ার দিকে চলে যায়। প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর বিমল চন্দ্র দাসকেও পদ্মা সেতু টোলপ্লাজার কাছে ফেলে যায় তারা।

অভিযুক্তদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে এবং সবাই স্থানীয় উপভাষায় কথা বলছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী আকাশ অসীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত