মাদারীপুর গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও কাঠের অভাবের কারণে বিকল্প জ্বালানী ব্যানা তৈরীর হিড়িক
এসআর শফিক স্বপন,মাদারীপুর
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:০০ | আপডেট : ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৬
মাদারীপুরে শীত মওসুম আসার সাথে সাথে বিকল্প জ্বালানী ব্যানা তৈরীর হিড়িক পড়েছে। শহর থেকে গ্রামঞ্চলে এই ব্যানা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বল্প আয়ের ছরিয়ে পড়েছে জনসাধারণ। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানী কাঠের অভাবের কারনে পরিবেশ বান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় বিকল্প জ¦ালানী হিসাবে এই ব্যানা জ¦ালানী হিসেবে ব্যবহারের উপর ঝুকে পড়েছে মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলার স্বল্প আয়ের জনসাধারন। জেলার কালকিনি, ডাসার, শিবচর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ কওে গরু খামারি এলাকায় বেশিরভা এসব ব্যানা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গৃহিনীরা।
গ্যাসের দাম বৃদ্দি ও জ্বালানী কাঠের অভাব তাই গরুর গোবর ও পাটখড়ি দিয়ে তৈরি হয় ব্যানা। বিকল্প জ্বালানী হিসাবে এই ব্যানা পরিবেশ বান্ধব ও সাশ্রয়ী। মাদারীপুর জেলা পশু সম্পদ বিভাগের দাবী খামারের পাশাপাশি ব্যানা বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারবে খামারিরা ।
গরু বা মহিষের গোবরের সাথে ধানের তুষ মিলিয়ে পাট খড়িতে মুঠ মুঠ করে দিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় ব্যানা। মহিলাদের চুলের বেনির মতো দেখতে হয় তাই গ্রামের মানুষ ব্যানা নাম দিয়েছে। এছাড়া মুঠ মুঠ করে বানায় তাই অনেক স্থানে মুইটঠা বলেও ডাকে। এছাড়া ঘোষি, গইডা, ঘুটেসহ বিভিন্ন নামে ডাকা হয় এই জ্বালানীকে। জ্বালানীর বিকল্প হিসাবে জুড়ি নেই এই ব্যানা’র। মাদারীপুরের গরুর খামারিরা এই ব্যানা তৈরি করে যেমন নিজের জ¦ালানীর যোগান দিচ্ছে তেমনি এগুলো বিক্রি করে যোগ করছে বাড়তি আয়। জ্বালানীর উর্ধ্বগতির বাজারে খামারিয়া এই ধরনের জ¦ালানী তৈরি করে বিক্রি করলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরাতে পারবে স্বল্প আয়ের পরিবারে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পাচখোলা গ্রামের ব্যানা তৈরীরর কারিগর আকলিমা বেগম জানান, ১ শত ব্যানা তৈরী করে দেড়শত টাকা থেকে ২শত টাকায় বিক্রি হয় । মাত্র ১ শত ব্যানা দিয়ে একটি ছোট পরিবারের প্রায় একমাস রান্না করতে পারে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মহিষেরচর এলাকার খামারী ফজলুর রহমান জানান আমার খামাতে প্রায় ১৬টি গরু আছে প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত আমার খামার থেকে গোবর সংগ্রহ করে ব্যানা তৈরী করে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করে জ্বালানী চাহিদা পুরণ করা হয়। এতে আমারও অর্থনৈতিকভাবে কিছু লাভ হয় অপরদিকে বেনা তৈরীর কারিগররা অর্থ উপর্যন করে তাদের সংসার চালান।
মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো.আছির উদ্দিন জানান, এই ব্যানা জ্বালানী হিসাবে যেমন পরিবেশ বান্ধব তেমনি সাশ্রয়ী। তাই খামারিরা এই ব্যানা উৎপাদন করে বাড়তি আয় করতে পারে । উর্ধ্বমূল্যের জ্বালানীর বাজারে দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় ব্যানার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ব্যানা দিয়ে রান্না করলে ধোয়া হয়না। পরিবেশ বান্ধব ও রান্নায় কোন কালি পড়েনা। খুব সহজে তৈরি করা যায়। তবে শহরের মানুষ এই ব্যানা সম্পর্কে না জানার কারণে গ্রামের পরিবারগুলোর জ্বালানী হিসাবেই ব্যবহার হচ্ছে এই ব্যানা।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত