বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৪ | আপডেট : ১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৬
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ হঠাৎ করে বিটিআরসি কার্যালয় এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ভাঙচুর চালায়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, তারা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইটপাটকেল ছুঁড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, তারা আসরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের শব্দ শোনা যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা। সরকারের অভিযোগ, একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশে এনে বাজারজাত করছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতেই হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধভাবে দেশে আসা ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হবে। তবে এনইআইআর চালুর আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত কোনও ফোন বন্ধ করা হবে না।
এর আগে বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা দেয়া হলেও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে তা ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। গত ৭ ডিসেম্বর মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করে দিনভর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছিলেন।
এনইআইআর কার্যকরের পর থেকে দেশে কেবল বৈধ ও সরকার অনুমোদিত মোবাইল হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত