পঞ্চগড়ে ইউপি সদস্য কর্তৃক উৎকোচ আদায়; তদন্তের পুনঃ নির্দেশ ইএনওর
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৩ | আপডেট : ৭ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৬
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের দুই ইউপি সদস্য ,সদস্যার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের নিকট সরকারী নানা সুবিধাদী দেওয়ার নামে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।জানা যায় গত মাস খানেক আগে ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ও সদস্যা সুরাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।
ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বয়স্ক, বিধবা ভাতা ও টিসিবির কার্ড দেওয়ার নামে একাধিক অস্বচ্ছল, গরীব ও হতদরিদ্র মানুষের নিকট উৎকোচ হাতিয়ে নেন।ঘটনার এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে ও ভুক্তভোগীরা প্রতিশ্রæতির কোনটা সুবিধাই তারা পান নি। বার বার তাগিদও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কালক্ষেপনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীরা উপায়ন্ত না পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গন পিটিশন দাখিল করে। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম ও ইউপি সদস্যা সুরাইয়া আক্তারকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে শুনানী করেন।
পরবর্তী কালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম ও সুরাইয়ার নাম বাদ একটি দায় সারা একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।ওই নামমাত্র প্রতিবেদন গ্রহন না করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দায়ীদের নাম উল্লেখ পূবর্ক অভিযোগের পুনঃ তদন্তে মৌখিক ভাবে আবারও তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দাখিলকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সায়ংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে অপারগতা জানান।জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের শুনানীর পরে ভুক্তভোগীরা উৎকোচের টাকা ফেরত নিতে গিয়ে কয়েকদিন আগে আশরাফুল ইসলাম ও সুরাইয়াকে বাইক সহ সড়কে আটকিয়ে দেয়।
এমন ঘটনার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীদের মাঝে ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দেয়। অবশিষ্ট উৎকোচের পরিমান ৫৪ হাজার টাকা।এদিকে তদন্তকারী একই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হওয়ায় দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।তবে আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যান নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। সুুরাইয়া মুঠোফোনে বলেন, এটি প্রমান হয়নি। জনগন আমাকে ভালোবাসেন। প্রমান করতে না পারলে তিনি সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকী দেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (্ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমি দুপক্ষকে ডেকে একটি শুনানী করি। পরে আভিযোগ টি তদন্তে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেই। তবে তিনি যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন সেখানে কিছুই নাই। আমি সে কারণে তাকে পনঃ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। যদি প্রতিবেদন যথাযথ না হয় তবে আমি আমার প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দিবো।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত