জানুয়ারিতে বয়ে যেতে পারে ৫ শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ | আপডেট : ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৫
ঘন কুয়াশায় আজও ঢাকা পড়েছে সারা দেশ। কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। টানা তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার একদিনেই ২১টি জেলাকে গ্রাস করে শৈত্যপ্রবাহ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও প্রান্তিক মানুষ।
এর মধ্যেই শীত নিয়ে নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। দেশের কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার [৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। জানুয়ারি মাসে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি [৮–১০ ডিগ্রি থেকে ৬–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক থেকে দুইটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র [৬–৮ ডিগ্রি থেকে ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ।
এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে চার দিন যশোরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হলো।
টানা শৈত্যপ্রবাহের দাপটে শহর ও গ্রামে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথ, যার প্রভাব পড়ছে বিমান চলাচলেও। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। ঢাকার এসব ফ্লাইট চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে পাঠানো হয়। সড়কে কুয়াশাজনিত কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরেই দেশে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। গতকালও (শুক্রবার) সাতটি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। প্রথম দিন ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়, পরে তা কিছুটা প্রশমিত হলেও ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ [শনিবার) মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় তা সাময়িকভাবে প্রশমিতও হতে পারে।
আজ শনিবারও কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ আংশিক মেঘলাসহ প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত