কবি নজরুল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা : অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৬ | আপডেট : ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০৩
শত বছর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর লেখনীতে বাংলাদেশ নাম প্রথম উচ্চারিত হয়। নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম , চির মনোরম চির মধুর...... কিংবা “দূর আরবের স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশের কুটির হতে” তিনি বলেছিলেন, “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান”....”জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’ “আমরা যদি না জাগি না, কেমনে সকাল হবে” “ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবৈশাখী ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর” সকলের সমবেত উচ্চারণ ছিলো নজরুল এর চেতনা-দর্শনের, সাম্য-সম্প্রীতির ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মান করতে হবে।।
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীর সমাধি প্রাঙ্গনে বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের ১০৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এ কথা বলেন।
সোমবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) বিদ্রোহী নজরুল-বিপ্লবী ওসমান হাদী স্মরণ কমিটি ও বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর স্মরণে কবি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সমবেত কন্ঠে বিদ্রোহী কবিতা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়।
মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, প্রধান আলোচক ছিলেন কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, পরিবেশবাদী নেতা সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, নজরুল গবেষক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, মিসেস রেহেনা সালাম, কবি ফারহানা ইসলাম রিমা, এ্যাড. লুৎফুল আহসান বাবু, নাট্যকার এন. এইচ. বাদল, সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ শাহীন, যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার মাওলানা শহীদুল হক, মোস্তফা কামাল মাহাদী, ফজলুর রহমান পলাশ প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান বলেন, নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা, সাম্যবাদ, মানবতা, দ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শন এবং বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী জীবন আমাদের চলার পথের পাথেয়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।
বিশেষ অতিথি ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ বলেন, আমরাই বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে জুলাই বিপ্লবের ভিত রচনা করেছিলাম। সেই বিদ্রোহী থেকেই আজ বিদ্রোহ। আর কোন বৈষম্য নয়, থাকতে পারবে না। ছাত্র জনতার আন্দোলন এর সুফল “গণতন্ত্র ও সুশাসন শাসন নিশ্চিত করতে হবে।” দেশ হতে দুর্নীতি ও সকল বৈষম্যের মূল উৎপাটনের মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ ওসমান হাদীর আদর্শ আজও শোষণ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আমাদের পথ দেখায়। তাঁদের বিদ্রোহী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দর্শন ও চেতনার বৈষম্যহীন ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা নিরলস কাজ করে যাবো।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত