বিএনপি শুধু সংস্কার চায় না, সংস্কার বাস্তবায়নও করবে: মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৯ | আপডেট : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩১
বিএনপি সংস্কার চায় না-এমন বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি শুধু সংস্কার চায় না, সংস্কার বাস্তবায়নও করবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি সংস্কার চায় না এমন প্রচারণা চালিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে সংস্কারের সূচনা করেন এবং খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় পদ্ধতি চালু করেন।
কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলায় যখন নিরস্ত্র বাঙালি দিশেহারা, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ বাঙালিকে বিদ্যুতায়িত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে হয়নি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সেক্টর কমান্ডাররা একত্রিত হয়ে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সূতিকাগার’ হিসেবে পরিচিত।তিনি দাবি করেন, সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন এবং খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।অনুষ্ঠান শেষে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিরা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছর ৪ এপ্রিল ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
- সর্বশেষ খবর
- সর্বাধিক পঠিত